ভারতের দাদাগিরিতে বেশ চমকে গিয়েছে চিন। লাদাখ সীমান্ত জুড়ে মহড়া চালাচ্ছিল চিনা সেনা। তারই মাঝে লাদাখ সীমান্ত পরিদর্শন করলেন ভারতের বায়ুসেনা প্রধান আর কে এস বাদোরিয়া। নয়াদিল্লির এই কূটনৈতিক চালে বেশ কিছুটা থমকে গিয়েছে চিনের মহড়া। বাদোরিয়া মূলত সীমান্তে ভারতের রণকৌশল ও পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেন। বায়ুসেনার যে ইউনিট সেখানে মোতায়েন রয়েছে, তাদের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতেই এই সফর করেন বায়ুসেনা প্রধান। 

পূর্ব লাদাখে উত্তেজনাপ্রবণ প্রান্তে মহড়া চালাচ্ছিল চিন। তারই মাঝে বায়ুসেনা প্রধানের এই সফর স্নায়ুযুদ্ধে বেশ কিছুটা এগিয়ে দিল ভারতকে বলেই মনে করা হচ্ছে। বাদোরিয়াকে গোটা এলাকা ঘুরে দেখান সেনাবাহিনীর আধিকারিকরা। বায়ুসেনার প্রস্তুতি সম্পর্কে তাঁকে বিস্তারিত তথ্য দেন। লেহর আউটপোস্ট ও এয়ার বেসের মাধ্যমে চিনের সেনার গতিবিধির ওপর নজর রাখে ভারত। শুক্রবার সেই ক্যাম্পই ঘুরে দেখেন বায়ুসেনা প্রধান। 

উল্লেখ্য দিন কয়েক আগেই একটি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয় চলতি মাসেই পূর্ব লাদাখ সেক্টরে গালওয়ান উপত্যতায় ভারত ও চিনা সেনাবাহিনী মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল।  যদিও সেই সংঘর্ষ মারাত্মক আকার নেয়নি। সংঘর্ষের তীব্রতা ছিল খুবই কম। তবে পরে সংবাদ সংস্থা এএনআই জানায়, ভারতীয় সেনা বাহিনীর সংবাদ মাধ্যমের সেই রিপোর্ট প্রত্যাখান করেছে। ভারতীয় সেনা বাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, রিপোর্টটি পূর্ব লাদাখের সমস্যা সমাধানের জন্য চলমান প্রক্রিয়াকে বাধা দেওয়ার জন্যই লেখা হয়েছে। 

গতবছর এই সময় থেকেই ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল লাদাখ সীমান্ত। চিনা সেনার অনুপ্রবেশের কথা ধীরে ধীরে সামনে আসছিল। জুন মাসেই গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনা সেনাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাধে। ২০ জন ভারতীয় সেনার মৃত্যু হয়। তারপর থেকে দীর্ঘ দিন উত্তপ্ত ছিল পূর্ব লাদাখের বিস্তীর্ণ সীমান্ত। প্যাঙ্গন থেকে গ্যালওয়ান ভ্যালি এমনকি দোপসাং উপত্যকাতেও দুই দেশের সেনার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। সম্প্রতি সেনা সরিয়ে নিতে রাজি হয়েছিল চিন। তাতেই কিছু হলেও শান্ত হয় পূর্ব লাদাখ সেক্টর।