মোটামুটিভাবে সকলেই জানতেন ভারতের প্রথম চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ হতে চলেছেন তিনিই। সোমবার সেনাপ্রধানের পদে তিন বছরের মেয়াদ শেষ করার ঠিক একদিন আগেই জেনারেল বিপিন রাওয়াত-এর নাম সরকারিভাবে ভারতের প্রথম  চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ হিসেবে ঘোষণা করা হল। নতুন পদে জেনারেল রাওয়াত সামরিক বিষয়ে সরকারের একক পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করবেন এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী, ভারতীয় বায়ুসেনা এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর মধ্যে আরও ভাল সমন্বয় সাধনের দিকে মনোনিবেশ করবেন।

চলতি বছর স্বাধীনতা দিবসের দিন তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর লক্ষ্যে একজন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) বা প্রতিরক্ষা প্রধান নিয়োগের ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তারপর থেকেই এই পদে প্রথম নিয়োগ পাওয়ার বিষয়ে এগিয়ে ছিলেন জেনারেল বিপিন রাওয়াত। মঙ্গলবারই তিনি সেনাপ্রধানের পদ থেকে অবসর নেবেন। তাঁর জায়গায় নয়া সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেবেন বর্তমান উপপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারভানে।

প্রথমে সিমলার সেন্ট এডওয়ার্ডস স্কুল, তারপর সেখান থেকে খড়কওয়াসলা-র জাতীয় প্রতিরক্ষা একাডেমি, এবং তারপর দেরাদুনের ভারতীয় মিলিটারি একাডেমি-তে শিক্ষা সম্পূর্ণ করেন জেনারেল বিপিন রাওয়াত। গোর্খা রেজিমেন্টের সদস্য হিসেবে জেনারেল রাওয়াত ভারতের পূর্ব দিকের নিয়ন্ত্রণ রেখা, কাশ্মীর উপত্যকা, এবং উত্তর-পূর্বে পদাতিক বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর তাঁকে সেনাপ্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল। মঙ্গলবারই তিনি সেই পদ থেকে সরে যাচ্ছেন। এরমধ্যেই এল নতুন দায়িত্ব প্রাপ্তির খবর।

এর আগে এই নয়া সামরিক পদের উপযুক্ত প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রীগোষ্ঠীর আওতায় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের নেতৃত্বে একটি ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তারা নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রীগোষ্ঠীর কাছে তাদের রিপোর্ট পেশ করে নভেম্বর মাসে। সিডিএস-এর জন্য যোগ্য, কমান্ডার ইন চিফ ব়্যাঙ্কের অফিসারদের নাম চাওয়া হয়েছিল তিন বাহিনীর কাছেই। তারা সেই নাম জমা দেয় অজিত ডোভালের কমিটির কাছে। তার মধ্য়েই অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকার ভিত্তিতে জেনারেল রাওয়াতকে বেছে নেওয়া হয়।

অজিত ডোভালের ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটি সিডিএস-এর কাজের পরিধি, বয়সসীমা, ক্ষমতা-ও ঠিক করেছে। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ-এর বয়স হতে হবে ৬৪ বছরের নিচে। সরকারে পদমর্যাদার দিক থেকে তিনি একাদশের ক-তম স্থানে থাকবেন। বর্তমানে মন্ত্রিসভার সচিবরা আছেন একাদশতম স্থানে। আর তিন বাহিনীর প্রধানরা পদমর্যাদায় দ্বাদশতম। অর্থাৎ, প্রতিরক্ষা প্রধানের পদমর্যাদা হবে তিন বাহিনীর প্রধানের উপরে কিন্তু মন্ত্রিসভার সচিবদের নিচে। সেনা, নৌ ও বায়ুসেনা বাহিনীর পাশাপাশি নতুন গঠিত সাইবার, স্পেস  ও স্পেশাল অপারেশনস বাহিনীও কাজ করবে চিফ অব ডিফন্স স্টাফের নির্দেশেই।