বদলায়নি তালিবান, বদলেছে তাদের অংশীদার। বুধবার আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুললেন সিডিএস জেনারেল বিপিন রাওয়াত।  

তালিবানরা এত দ্রুত আফগানিস্তান দখল করে নিয়েছে, যা দেখে বিস্মিত হয়ে গিয়েছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। বুধবার কোনও রাখঢাক না রেখে আফগানিস্তানে তালিবানি দখলদারি নিয়ে মুখ খুললেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ বা সিডিএস (CDS) জেনারেল বিপিন রাওয়াত। তালিবানরা যতি দাবি করুক যে তারা অনেক বদলে গিয়েছে, তা সত্ত্বেও তাদের ২০ বছর আগের তালিবানদের থেকে এতটুকু আলাদা নয় বলেই মনে করছেন তিনি। জেবারেল রাওয়াত আরো বলেছেন তালেবানদের আফগানিস্তান দখলের যে পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে ভারতে, তার মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে ভারতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

নয়াদিল্লিতে এদিন, অবজর্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন বা ওআরএফ সংস্থার আয়োজিত, 'দ্য ইন্ডিয়া -ইউএস পার্টনারশিপ: সিকিওরিং দ্য ইলেভেন্থ সেঞ্চুরি' শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে জেলনারেল রাওয়াত বলেন, আফগানিস্তানের যে ঘটনাগুলি ঘটছে তা 'প্রত্যাশিতই ছিল'। তিনি আরও বলেন, আফগানিস্তান থেকে যারা পালিয়ে আসছেন তাঁদের অভিজ্ঞতাই বলে দিচ্ছে, তালিবানরা সেখানে কী ধরনের কার্যকলাপ চালাচ্ছে। তিনি জানান, বদল যেটা সেটা অংশীদারির। সিডিএস-এর কথায়, 'ভিন্ন অংশীদারদের সঙ্গে একই তালিবান'।

জেনারেল রাওয়াত আরও জানিয়েছেন, মার্কিন ও অন্যান্য বিদেশি সেনা সরে গেলেই যে আফগানিস্তানের দখল নেবে তালিবানরা, এমনটা ভারতীয় বাহিনীর প্রত্যাশার মধ্যেই ছিল। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষমা করার পর থেকেই গত কয়েক মাস ধরে ভারত এই ধরণের ফলাফলই আশা করেছিল। ভারতীয় বাহিনীর উদ্বেগ ছিল, আফগানিস্তান থেকে কীভাবে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ ভারতে ঢুকতে পারে। সেই সব বিবেচনা করে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি চলছিল। কাজেই এখন যা কিছু ঘটেছে তা ভারতের কাছে একেবারেই নতুন কিছু নয়। তবে তালিবানরা যে দ্রুততায় তা করে দেখিয়েছে, তা বিস্ময়কর। ভারতের কাছে সেটাই একমাত্র অপ্রত্যাশিত ছিল।

বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মঞ্চগুলিতে ভারত বরাবরই জোর দিয়ে বলেছে, যে আঞ্চলিক শান্তির জন্য আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্তমানে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লি আগ বাড়িয়ে কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বরং কিছুটা ওয়েট অ্যান্ড ওযাচ-এর ভঙ্গিতে ঘনিষ্ঠভাবে অবস্থার পর্যবেক্ষণ করছে। তবে তলে তলে তালিবানদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের কাজও চলছে বলেি মনে করা হচ্ছে। 

YouTube video player