বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলায় অভিযুক্ত সকলকে বেকসুর খালাস দিয়েছে বিশেষ সিবিআই আদালত। এরপর গেরুয়া শিবিরে খুশির হাওয়া বইলেও কংগ্রেস, সিপিএম এদিনের রায়ের তীব্র বিরোধিতা করেছে। কংগ্রেস যেখানে এই রায়ের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চ আদালতে আবেদন করা উচিত বলে জানিয়েছে, সেখানে সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি এই রায় আইন ব্যবস্থাকেই হাস্য়াস্পদ করে তুলেছে বলে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

এদিনের রায় ঘোষণা পর কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা বলেন, বিশেষ আদালতের সিদ্ধান্ত 'সাংবিধানিক চেতনার বিরোধী'। তিনি দাবি করেন, বাবরি মসজিদ ধ্বংস দেশের সৌভ্রাতৃত্বকে ধ্বংস করার একটি গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ছিল। তাঁর অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশেরে তৎকালীন বিজেপি সরকার হলফনামা দিয়েও তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হযেছিল। এমনকী সুপ্রিম কোর্ট-ও এই 'ধ্বংসযজ্ঞ'কে দেশের আইন লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছিল।

সিপিএম-এর সাদারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি এই রায়কে ন্যায়বিচারের নামে রসিকতা বলেছেন। তিনি প্রশ্ন করেছেন, বাবরি মসজিদ ভাঙার পিছনে যদি কোনও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের না থাকে তাহলে কি 'মসজিদটি নিজে নিজেই ভেঙে পড়েছিল?' তিনিও অযোধ্যা জমি বিতর্ক মামলার তত্কালীন সিজেআইয়ের নেতৃত্বাধীন সংবিধান বেঞ্চের পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, শীর্ষ আদালতের চোখে এই ধ্বংসকে 'গুরুতর আইন লঙ্ঘন বলা হয়েছিল'। তারপর বিশেষ আদালতের এই রায়, তাঁর মতে 'লজ্জাজনক'।

বিরোধীরা দাবি করলেও সরকার বা সিবিআই কি বিশেষ আদালতের এই রায়কে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করবে? ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার একাধীক সদস্য এই রাকে স্বাগত জানিয়েছেন। কাজেই সরকারের পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। আর সিবিআই-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পরে সেটি সিবিআই সদর দফতরে সিবিআই-এর আইন বিভাগ অধ্যয়ন করবে। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী রা চ্যালেঞ্জের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় সংস্থা।