কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও-র তৈরি করোনা প্রতিরোধকারী ওষুধ বেশ নিরাপদ। তা নিয়ে দ্রুত সুস্থ হচ্ছেন রোগীরা। এমনই আশ্বাস দিলেন ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস বা আইএনএমএএসের গবেষক সুধীর চন্দ্র। তিনি জানাচ্ছেন ডিআরডিও- ওষুধ 2-deoxy-D-glucose (2-DG) সম্পূর্ণ নিরাপদ। এই ওষুধের ব্যবহার এবার শুরু করা যেতে পারে। 

2-DG নামের এই করোনার ওষুধ তৈরি হয়েছে আইএনএমএএসের তত্ত্বাবধানে। ডিআরডিও-র এই গবেষণাগারে ওষুধটি তৈরি হয়েছে ডঃ রেড্ডিস ল্যাবরেটরির সহায়তায়। সুধীর চন্দ্র জানান, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সময় দেখা গিয়েছে এই ওষুধ রোগীদের দ্রুত সুস্থ করে তুলছে। তৃতীয় দফায় ২২০ জন রোগীর ওপর এই ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলে। দ্বিতীয় দফায় ১১০ জনের ওপর এই ওষুধের প্রয়োগ হয়েছিল। প্রত্যেক রোগী সাধারণ ওষুধের তুলনায় দুই থেকে তিনদিন আগে সুস্থ হয়েছেন। 

এই ওষুধটি গুঁড়ো আকারে তৈরি করা হয়েছে। সেই গুঁড়ো জলে গুলে নিয়ে মুখে দিয়ে খেতে হবে। ডিআরডিও-র গবেষণাগার এবং হায়দরাবাদের ডা. রেড্ডিজ ল্যাবরেটরিজ-এর যৌথ গবেষণায় এই ওষুধটি বিকশিত হয়েছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ২-ডিঅক্সি-ডি-গ্লুকোজ বা সংক্ষেপে টু-ডিজি। এটি খেলে কোভিড একেবারে সেরে যাবে তা না হলেও, এই ওষুধের ক্লিনিকাল পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই ওষুধে থাকা একটি অণু হাসপাতালে ভর্তি থাকা কোভিড রোগীদের দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে সহায়তা করে। শুধু তাই নয়, ডিজিসিআই জানিয়েছে, তারা পরীক্ষা করে দেখেছে যে, রোগীদের অক্সিজেন নির্ভরতাও কমায় এই ওষুধটি।

কোভিড মহামারির প্রথম তরঙ্গ চলার সময়, হায়দরাববাদের সেন্টার ফর সেলুলার অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বা সিসিএমবি (CCMB)-র সহায়তায় নতুন করোনা ভাইরাসটির প্রতিষেধক তৈরির লক্ষ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছিল ডিআরডিও। ২০২০ সালের এপ্রিল মাসেই তাঁরা আবিষ্কার করেছিলেন ২-ডিজি'র মধ্যে থাকা বিশেষ অণুটি মানবদেহে সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের সংখ্যা বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। তাই এটি এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে। সেই গবেষণার ফলাফলের উপর ভিত্তি করেই ডিসিজিআই এবং সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন বা সিডিএসসিও (CDSCO) গত বছরের মে মাসে কোভিড -১৯ রোগীদের উপর ২-ডিজি-র দ্বিতীয় পর্যায়ে ক্লিনিকাল পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছিল।

সুধীর চন্দ্র জানিয়েছেন তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গিয়েছে অক্সিজেনের ওপর রোগীদের নির্ভরশীলতা ৩১ শতাংশ কমে এসেছে তৃতীয় দিন থেকেই। এই পরিসংখ্যানই জানাচ্ছে কতটা কার্যকর এই ওষুধ।