অনেকেই স্বাস্থ্যের কথা ভেবে ধূমপান থেকে নিজেকে বিরত রাখেন, কিন্তু জানেন কি পাশের মানুষটির ধূমপান কতটা মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে প্রতি নিয়ত। ৩১ শে মে অ্যান্টি টোবাকো ডে, উপলক্ষ্যে বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থা বৃহস্পতিবার দিন প্রকাশ করল এক বিস্তারিত সমীক্ষা রিপোর্ট, যেখানে উঠে এল বিষ্ময়কর তথ্যঃ

  • তামাক যারা সেবন করেন তাদের মধ্যে অর্ধেক শতাংশ মানুষেরই মৃত্যু ঘটে এই কারণে।
  • বিশ্বে ৮০ শতাংশ মানুষই ধূমপান করে থাকেন। মূলত যারা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য।
  • বিশ্বে প্রতি বছর তামাকের কারণে ৮ মিলিয়ানেরও অধিক মানুষের মৃত্যু ঘটছে। যাদের মধ্যে ৭ মিলিয়ান মানুষ নিজেই ধূমপান করেন।
  • বিশ্বে মোটের ওপর ১.৩ মিলিয়ন মানুষ কেবল মাত্র অপরের ধূমপান করার কারণে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পরেন।
  • প্রতি বছর ৬৫ হাজার শিশুরও মৃত্যু ঘটে এই একই কারণে।

ভারতের চেহারাটা আরও সাংঘাতিক আকার ধারন করছে দিনে দিনে। মিনিস্ট্রি অব হেল্ড, ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ারা, ২০১৭ সালের জুন মাসে গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোবাকো সর্ভে ২-র এক রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনে, যেখানে লক্ষ্য করা যায়ঃ

  • মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে ধূমপান করার অনুপাত, প্রতি তিনজন পিছু একজন গ্রামে ও প্রতি পাঁচজন পিছু একজন শহরে তামাক সেবন করে থাকেন।
  • ভারতে সর্বাধিক ব্যবহৃত তামাক হল খইনি, যা মোট ওপর তামাক সেবনের ১১ শতাংশ স্থান অধিকার করে আছে।
  • ১৮ বছর উর্দ্ধে থাকা ছেলে মেয়েদের মধ্যে ২৪.৯ শতাংশ, যা সংখ্যায় দাঁড়া ২৩২.৪৩ মিলিয়ান, প্রত্যহ কোনও না কোনও উপায় তামাক সেবন করে।

 

কিভাবে এড়াবেন সমস্যা, সমাধানের রাস্তা দেখালো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশন)-

  • ট্যাক্সের পরিমান বাড়াতে হবে তামাক জাতীয় দ্রব্যের ক্ষেত্রে। সারা বিশ্বে মাত্র ৩২টি দেশ ট্যাক্স চাপিয়েছে এই পন্যে।
  • সতর্কতা বাড়াতে হবে।
  • বিক্রয়ের হার কমাতে হবে।
  • বিজ্ঞাপনে নিষেধাজ্ঞা আনতে হবে।
  • প্রকাশ্যে ধূমপান নিষিদ্ধ করতে হবে প্রভৃতি।

ফলেই বোঝা যায় শুধুমাত্র নিজের আত্মসন্তুষ্টি, বা নেশার কারণে প্রতি নিয়ত সমাজে বাস করা হাজারো শিশু, অন্যান্য মানুষের অজান্তেই মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছেন অনেকেই। রিপোর্টে উঠে আসা তথ্য সেই কথাই বলে।