মৃত্যুই হল মাথায় গুলি লাগা সাংবাদিক বিক্রম জোশীর। শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ করে পুলিশে অভিযোগ জানানোর কারণেই তাঁকে গত ২০ জুন গাজিয়াবাদের বিজয়নগরে তাঁর বাসভবনের কাছে অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতীরা মাথায় গুলি করেছিল বলে অভিযোগ। বুধবার ভোরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাঁর চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা ডাক্তার জানিয়েছেন, গুলির আঘাতে বিক্রম জোশীর মাথার শিরাগুলির মারাত্মক ক্ষতি হয়েছিল।

এদিকে, ওই থানার ইনচার্জকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এনেছিল বিক্রম জোশীর পরিবার। ইনচার্দের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। এই মামলায় এখনও পর্যন্ত মোট নয়জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খোঁজ চলছে আরও এক অভিযুক্তের।

দিল কয়েক ধরে বিক্রম জোশীর ভাগ্নিকে কিছু লোক রাস্তায় হেনস্থা করছিল। তার প্রতিবাদ করেন ওই সাংবাদিক। এই নিয়ে বিজয়নগর থানায় অভিযোগ-ও দায়ের করেছিলেন। কিন্তু, পুলিশ তো কোনও ব্যবস্থা নেয়ইনি, বরং এর মাত্র কয়েকদিন পরই, গত সোমবার দুপুরে, তাঁর বাড়ির কাছেই একদল দুষ্কৃতী বিক্রম জোশীকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল। গুলি সরাসরি তাঁর মাথায় লেগেছিল। এমনটাই অভিযোগ করেছেন তাঁর ভাই অনিকেত জোশী।

কানপুরে ৮ পুলিশকর্মীকে হত্যা এবং তারপর সেই ঘটনার অপরাধী মাফিয়া বিকাশ দুবে-কে হত্যার মাত্র কয়েকদিন পরই এই সাংবাদিক হত্যার ঘটনা ঘটল। বিকাশ দুবের ঘটনায় প্রশাসন ও শাসক দল বিজেপির অনেক নেতা কর্মীই জড়িত বলে অভিযোগ তুলছিলেন বিরোধীরা। যোগী রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল কংগ্রেস। স্বাভাবিকভাবেই সাংবাদিক হত্যার এই ঘটনা আরও চাপে ফেলেছে যোগী প্রশাসনকে।

এদিন তাঁর মৃত্যুর পর মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ঘোষণা করেছেন, বিক্রম জোশীর পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং তার স্ত্রী-কে একটি সরকারি চাকরি দেওয়া হবে।