রাজীব চন্দ্রশেখর, রাজ্যসভার সাংসদ ও বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র : আইনের তদন্তের অধীনে ব্যবসায়িক পরিচালনা ও ব্যবসায়িক মডেল ভেঙে যাওয়ার পর ভারতে তাদের মানবাধিকার-এর 'ব্যবসা' বন্ধ করে দিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। প্রত্যাশিতভাবেই প্রতিষ্ঠানটি তাদের একর পর এক আইন ভাঙার ঘটনাকে ঢাকতে 'সরকারি উইচহান্ট'-এর অভিযোগ এনেছে।

কোনওভঙ্গকারী নিজেকে ভুক্তভোগী হিসাবে দেখাতে চাইছে, এমন ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। এই ক্ষেত্রে, সরকারি পদক্ষেপ, বিশেষত ইডি-র 'প্রতিকূল' প্রতিবেদনের পদক্ষেপ গ্রহণ করাকে দোষারোপ করা হয়েছে। তদন্ত থামাতে অ্যামনেস্টি আদালতে তাদের বিভিন্ন আইনী প্রতিকার ব্যবহার করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে।

ভারতে আইনের শাসন চলে এবং সমস্ত বিদেশী এনজিওগুলিকেই তহবিল গ্রহণের জন্য, এফসিআরএ বা বিদেশি তহবিল নিয়ন্ত্রণ আইন মেনে চলতে হয়। 'কোনও ব্যক্তি বা সমিতি বা সংস্থার দ্বারা বিদেশী অবদান বা বিদেশী আতিথেয়তার গ্রহণ এবং ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে এবং জাতীয় ক্ষতির হতে পারে এমন কোনও কর্মকাণ্ডের জন্য বিদেশী অবদান বা বিদেশী আতিথেয়তার গ্রহণ এবং ব্যবহার নিষিদ্ধ করার জন্য যে সব আইন রয়েছে সেগুলিকে এক জাগায় আনার জন্য সংসদে এফসিআরএ, ২০১০ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে'।

কিছু কিছু সংস্থার ক্ষেত্রে গত কয়েক দশক ধরে ভারতীয় আইনকে মেনে চলা বা সম্মান না করাটাই রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অ্যামনেস্টির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। অ্যামনেস্টি-কে যে প্রশ্নগুলি করা হচ্ছে সেগুলি গুরুতর প্রশ্ন - এগুলি যে কোনও সার্বভৌম দেশে, আইনি পথে পরিচালিত যে কোনও বিদেশী সত্তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়।  

অ্যামনেস্টিসের অর্থ বিষয়ক তদন্তে জানা গিয়েছে এই সংস্থা বেশ মজায় ভারতীয় আইন লঙ্ঘন করে কাজ করে যাচ্ছিল। ২০০০ সালের ডিসেম্বর মাসে এই সংস্থা মাত্র একটি এফসিআরএ অনুমোদন পেয়েছিল। ২০১০ সালের নতুন আইন আসার পর এই সংস্থার এসসিআরএ অনুমোদন আর কখনও পুনর্নবীকরণ করা হয়নি, প্রতি ৫ বছরে যে এসসিআরএ বাধ্যতামূলকভাবে পর্যালোচনা এবং পুনর্নবীকরণ কারতে হয়, সংস্থাটি তাও করায়নি। বহুবার তাদের এফসিআরএ অনুমোদন প্রত্যাখ্যাত হওয়া সত্ত্বেও, অ্যামনেস্টি বিদেশ থেকে অর্থ অনুদান নেওয়া চালিয়ে গিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন (এআইএফ), অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড (এআইআইপিএল), ইন্ডিয়ান ফর অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ট্রাস্ট (আইএআইটি), অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সাউথ এশিয়া ফাউন্ডেশন (আইআইএসএএফ) - বিভিন্ন সত্ত্বার মাধ্যমে বিদেশি তহবিল গ্রহণ করা হয়েছে। এতগুলি সত্ত্বা ব্যবহার করে স্ক্রুনিটি বা এফসিআরএর জন্য প্রয়োজনীয় সম্মতির বিষয় গুলি এড়িয়ে গিয়েছে তারা।

স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে গত কয়েক বছর ধরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বারবার অস্বীকৃতি সত্ত্বেও, অ্যামনেস্টি ভারতে অবৈধভাবে বিদেশি তহবিল এনেছে। এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট অবশ্য অলাভজনক এনজিও হয়েও মুনাফা অর্জনের কার্যক্রম এবং সন্দেহজনক অর্থ স্থানান্তর-সহ অ্যামনেস্টির বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ করেছে

তাদের ভারত থেকে সরে যাওয়া, ইউপিএ-র শাসনের এক দশকে তাদের কার্যক্রম নিয়ে চলমান তদন্তে ভয় পাওয়ার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। সেই সময় অ্যামনেস্টি মনে করেছিল, তারা ভারতীয় আইনের কাছে দায়বদ্ধ নয়। এই ভ্রান্তি চূর্ণবিচূর্ণ হযে যাওয়াতেই 'সরকারি উইচহান্ট'-এর ধোঁয়াশা তৈরি করা হচ্ছে।

অর্থ সংক্রান্ত সন্দেহজনক কার্যক্রমের বিষয়টি ছাড়াও ভারতে অ্যামনেস্টি-র উপস্থিতি নিয়ে আরও বেশ কয়েকটি সমস্যা ছিল। গার্ডিয়ান নিউজপেপারে কিছু বছর আগে গীতা সাহাগল-এর বয়ান দিয়ে অ্যামনেস্টিকে নৈতিকতা হারানো একটি সংস্থা বলা হয়েছিল। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই সংস্থার কর্মক্ষেত্রে ব্যাপক দাদাগিরি, জনসমক্ষে অপমান করা, বৈষম্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

(রাজীব চন্দ্রশেখর, রাজ্যসভার সাংসদ এবং বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র)
 
'মানবাধিকার'-কে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে এই সংস্থা বছরের পর বছর ধরে বিভাজনমূলক নীতি এবং হিংসা প্রচারের চেষ্টা করছে। সম্প্রতি, তারা সিএএ বিরোধী বিক্ষোভে ইন্ধন দিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল - সিএএ মুসলিম বিরোধী, এই বিরাট মিথ্যা প্রচারে তাদের দৃশ্যমান ভূমিকা ছিল। একটি এনজিও হিসাবে এটি সরকার, বিজেপি এবং বিজেপির সমর্থক এবং হিন্দুদের সম্পর্কে জঘন্য ও ঘৃণ্য প্রচার চালিয়েও বার বার প্রমাণহীন এবং আষাঢ়ে অভিযোগ ও মিথ্যার হাচত ধরে পার পেয়ে গিয়েছে।

অন্যান্য দেশেও অ্যামনেস্টির ইচ্ছাকৃতভাবে হস্তক্ষেপের দীর্ঘদিনের রেকর্ড রয়েছে - একেবারে ঠান্ডা যুদ্ধের সময় থেকে। গোপনে কোনও দেশকে দুর্বল করে দেওয়াটা বরাবরই এই সংগঠনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। বেশ কয়েক বছর ধরে এই সংস্থা পশ্চিমী বিশ্বে দেশগুলির হয়ে কাজ করত। তারপরে ২০০০-এর গোড়ার দিকে লিবারাল, বামপন্থী এবং নৈরাজ্যবাদীরা এই সংগঠনটি দখল করে, সংস্থার কৌশল এবং লক্ষ্যে মৌলিকভাবে পরিবর্তন আসে। ২০১০ সালে জওহরলাল নেহেরুর ভাগ্নী নয়নতারা সাহাগলের মেয়ে গীতা সহগাল অ্যামনেস্টি ত্যাগ করেছিলেন। অন্যান্য বিভিন্ন কারণের সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, ইসলামিক প্রেসার গ্রুপগুলির সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের সংযোগ ক্রমে বাড়ছে। তিনি বলেন, বর্তমান অ্যামনেস্টির নেতৃত্ব 'আদর্শের দিক থেকে দেউলিয়া' হয়ে গিয়েছে এবং 'নারিবিদ্বেষ'এ ভুগছে। নকশাল, নৈরাজ্যবাদী থেকে সন্ত্রাসবাদী - ভারতে হিসংবাত্মক বামপন্থী ও ইসলামপন্থীদের সমর্থন করার বিষয়ে অ্যামনেস্টির দীর্ঘ ও  সন্দেহজনক রেকর্ড রয়েছে - সম্ভবত এটা তাদের হিংস্র বিপ্লবের বাম উদার স্বপ্নের সঙ্গে মানানসই। তারা দীর্ঘদিন ধরে, মানবাধিকারের নামে আইনপ্রয়োগকারী ও সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক প্রচারের জন্য ভারতে বাক স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকারের সুরক্ষার অপব্যবহার করেছে - অনেক নিবেদিতপ্রাণ নিরাপত্তা আধিকারিক তাদের জন্য হতাশায় ডুবে গিয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত হাল ছেড়ে দিয়েছেন।

সরকারি উইচহান্টের কাহিনি সত্বেও, বিষয়টা হল, অ্যামনেস্টি-কে, ভারতের অন্যান্য  প্রতিটি সংস্থা এবং ব্যক্তিদের মতো ভারতীয় আইনকে সম্মান করতে এবং মেনে চলতে হবে। এর মধ্য দিয়ে একটাই বার্তা প্রকাশ হয়েছে, তা হ'ল - যদি আপনি ভারতে আইন লঙ্ঘন করেন তবে পরিণতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। বিদেশী এনজিও হওয়া মানেই ভারতে ফ্রি-পাস পাওয়া যাবে, এমনটা আর নেই।