অদ্ভূত ঘটনা বললেও কম বলা হয়। কেরলের কোঝিকোড়ের মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার পর ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই শনিবার দুপুরে রাঁচি বিমানবন্দরের দুর্ঘটনার মুখ পড়েছিল এয়ার এশিয়া-র একটি বিমান। ঘন্টা দুই পর ওই বিমানটি ফের যাত্রা করতে গিয়ে ফের একবার এড়ালো দুর্ঘটনা। এবার ক্ষতি হতে পারত আরও বড়। মাত্র ঘন্টা দুই-এর ব্যবধানে দুইবার রক্ষা পেলেন ১৭৬ জন যাত্রী।

এদিন সকালে আই ৫-৬৩২ নম্বরের এয়ার এশিয়া বিমান রাঁচি বিমানবন্দর থেকে ক্রু-সহ ১৭৬ জন যাত্রী নিয়ে মুম্বই যাচ্ছিল। টেক-অফ'এর সময় কিছু পাখির সঙ্গে সংঘর্ষ হয় বিমানটির। বিমানচালক সঙ্গে সঙ্গেই বিমানটির টেক-অফ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্রেক কষেছিলেন। তাই সেই যাত্রা বড় বিপদের হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন যাত্রীরা। এরপর রাঁচি বিমানবন্দরের ডিরেক্টর বিনোদ শর্মা-র তদারকিতে পাখির সঙ্গে সংঘর্ষে বিমানটিরক যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, তা মেরামত করা হয়।

ঘন্টা দুই পর বিমানটি ফের যাত্রীদের নিয়ে বীরস মুন্ডা বিমানবন্দরের রানওয়ে ধরে দৌড় শুরু করেছিল। তবে এবার আরও বড় একটি বিপদ অপেক্ষায় ছিল। রানওয়ে ধরে কিছুটা দৌড়ানোর পরই বিমানটির চাকা থেকে আগুনের পুলকি বের হতে শুরু করে এবং এরপরই একটি জোর বিস্ফোরণ ঘটে। এমার্জেন্সি ব্রেক চেপে সঙ্গে সঙ্গে পাইলট বিমানটি দাঁড় করাতে সক্ষম হন। বিমানের চাকা থেকে স্ফুলিঙ্গ বের হচ্ছে দেখে তত্ক্ষণাত দু'টি দমকলের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। যাত্রীদের ফের একবার নামিয়ে আনা হয়। বিমানটি এদিন আর উড়বে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।

দ্বিতীয়বার যাত্রায় বিঘ্ন ঘটার পর রাঁচির বীরসা মুন্ডা বিমানবন্দরের ডিরেক্টর বিনোদ শর্মা জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত তদন্তের পরই দ্বিতীয়বারের ঘটনার কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাবে। তবে প্রথমবার উড়ানের সময় রানওয়েতে বিমানটির সঙ্গে পাখির যে সংঘর্ষ হয়েছিল, তার জন্যও কিছু যান্ত্রিক সমস্যা হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। বিমানবন্দরের এই পাখি সমস্যা দূর করার জন্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই রাঁচির বীরসা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।