করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নতুন করে ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে এই দেশে। যা নিয়ে রীতিমত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক। এই অবস্থায় দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আরও একবার মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চলেছেন। আগামী বুধবার অর্থাৎ ১৭ মার্চ দুপুর ১২টা নাগাদ এই বৈঠক হবে বলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যলয় থেকে জানান হয়েছে। 

গত বছর অক্টোবর থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের রেকর্ড নিম্মগামী ছিল। শীতকালে সংক্রমিতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা থাকলেই তা হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই ছিল। চলতি বছর গোড়াতেও আক্রান্তের দৈনিক গড় ১০ হাজার ছিল। স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে সোমবার অর্থাৎ আজ করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২৬ হাজার ২৯১। যা গত ৮৫ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। শুধু আক্রান্ত নয় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছিল ১১৮ জনের। এপর্যন্ত দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১ লক্ষ ৫৮ হাজার ৭২৫। 
মহারাষ্ট্র পঞ্জব, কর্ণাটক, গুজরাট, তামিলনাড়ুতে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তের হার ৭৮.৪১ শতাংশ। যা নিয়ে রীতিমত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক। যার মধ্যে কেরল, পঞ্জাব ও মহারাষ্ট্রেই আক্রান্তের হার ৭৭ শতাংশ। আর সেই কারণে  সক্রিয় মামলার সংখ্যাও ক্রমশই বাড়ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছে প্যাসিটিভিটি হারকে পাঁচ শতাংশের নিচে রাখা, সক্রিয় কেসগুলির সন্ধান করা খুবই প্রয়োজনীয়। পাশাপাশি আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসাদের সনান্ত করে তাদের বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমেই সংক্রমণের চেন ভাঙতে হবে।


এই অবস্থায় রাজ্যগুলির সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন মোদী। করোনা-কালে এর আগেও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই সময়ই তিনি বলেছিলেন মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা অত্যন্ত জরুরি। সংক্রমণ রুখতে প্রয়োজনে রাজ্যগুলি একাধিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও বার্তা দিয়েছিলেন। আগামী বৈঠকে নরেন্দ্র মোদী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে কীকী বার্তা দেন সেটাই এখন দেখার।