আইনি পথে বাঁচার চেষ্টা কম করেনি সে। কিন্তু লাভ হল না, নির্ভয়াকাণ্ডে চারজন দোষীর মৃত্যুদণ্ডই বহাল রাখল আদালত। আদালতের রায় জানার পর তিহার জেলে কান্নায় ভেঙে পড়ল অন্যতম সাজাপ্রাপ্ত বন্দি বিনয় শর্মা। কিছুতেই তার কান্না থামানো যাচ্ছিল না! তেমনই খবর জেল সূত্রে। 

দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনের ইতি। গত ৭ জানুয়ারি নির্ভয়াকাণ্ডে দোষীদের বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে দিল্লি-র পাতিয়ালা হাউস কোর্ট। চূড়ান্ত হয়ে যায় ফাঁসির দিনক্ষণ।  জানিয়ে দেওয়া হয়, আগামী ২২ জানুয়ারি মৃত্যদণ্ড করা হবে চার ধর্ষকের। কিন্তু তারপরেও কিউরেটিভ পিটিশন বা প্রাণভিক্ষার আবেদন করার সুযোগ ছিল। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই বাঁচার শেষ চেষ্টা চালিয়েছিল নির্ভয়াকাণ্ডে মৃত্যদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামী বিনয় শর্মা ও মুকেশ সিং। সুপ্রিম কোর্টে প্রাণভিক্ষা আবেদন জানিয়েছিল তারা। মঙ্গলবার প্রাণভিক্ষার আবেদন বা কিউরেটিভ পিটিশন পত্রপাঠ খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালতের পাঁচ সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, নির্ভয়াকাণ্ডে দোষীদের মৃত্য়দণ্ডই বহাল থাকছে।

আরও পড়ুন: নির্ভয়ার ধর্ষক-খুনীদের ফাঁসি পিছু ১৫হাজার টাকা করে পাবেন মেরঠের ফাঁসুড়ে

দিল্লির তিহার জেল সূত্রে খবর, মঙ্গলবার আদালতের রায় জানার পর বাবার সঙ্গে দেখা করতে চায় বিনয়। জেলে অফিসে দেখাও হয় তাদের। বাবাকে দেখে আর চোখের দল বাঁধ মানেনি নির্ভয়াকাণ্ডে সাজাপ্রাপ্তের। রীতিমতো হাউহাউ করে কাঁদতে শুরু করে সে। এমনকী এক সময়ে বাবাকে বিনয় বলে, 'আমাকে জড়িয়ে ধরো।'  এদিকে তিহার জেলে নির্ভয়াকাণ্ডে চার ধর্ষককে ফাঁসি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। মেরঠ থেকে ফাঁসুড়ে পবন জল্লাদকে ডেকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জেল কর্তৃপক্ষ। চিঠি পাঠানো হয়েছে উত্তরপ্রদেশের কারাদপ্তরকে।  ফাঁসির আগে মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে আসামীদের সঙ্গে জেল আধিকারিকরা নিয়মিত কথা বলছেন বলে জানা গিয়েছে।