'...সভি কা খুন হ্যায় ইহাঁ কি মিট্টি মে সামিল, কিসি কে বাপ কা হিন্দুস্তাীন থোরি হ্যায়...'। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশে জুড়ে সিএএ-বিরোধী  আন্দোলনের স্লোগান হয়ে উঠেছিল বিখ্যাত উর্দু কবি রাহাত ইন্দোরি-র এই পঙক্তি। করোনাভাইরাস মহামারি হানা না দিলে হয়তো আরও দীর্ঘ ও ব্যাপক হতো সেই আন্দোলন। মঙ্গলবার করোনা কেড়ে  নিল সেই সিএএ-এনআরসি বিরোধী আন্দোলনের সুর  বেঁধে দেওয়া কবিকেও।

মঙ্গলবার ইন্দোরের শ্রী অরবিন্দ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন কবি। বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। গত রবিবারই করোনা পজিটিভ হিসাবে সনাক্ত হয়েছিলেন তিনি। তারপর থেকেই হাসপাতালে ছিলেন। মঙ্গলবার, পর পর দুবার হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসারত ডাক্তাররা। ৬০ শতাংশ নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন তিনি।

গত ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় সরকার যখন নাগরিকত্ব সংশোধনি আইন বা সিএএ লাগু করেছিল। তার আগেই অসমে তৈরি করা হয়েছিল জাতীয় নাগরিকপঞ্জী বা এনআরসি। তারপর সারা দেশেও নাগরিকপঞ্জী তৈরির কথা বলা হয়েছিল সরকারের পক্ষ থেকে। এরপরই পুরো দেশে জুড়ে এই দুই আইনের বিরোধিতা করে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষ নিজেদের মতো করে বিরোধিতা করছিলেন। তবে সবার মুকেই ছিল, রাহাত ইন্দোরি-র লেখা সেই লাইন, 'কিসি কি বাপ কে হিন্দুস্তান থোরি হ্যায়'। তাঁর এই শায়েরিটি আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছিল বলা যায়।

রাহাত ইন্দৌরি নিজে বলেছিলেন, এই শায়েরি সেইসব ভারতীয়দের জন্য যাঁরা দেশের জন্য মরে যাওয়ার সাহস রাখেন। দেশের মানুষ তাঁর এই শায়েরির মাধ্যমে তাঁদের মতামত তুলে ধরেছে সেটাই তাঁকে সবচেয়ে আনন্দ দিয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন এই বিখ্যাত উর্দু কবি।

গত প্রায় ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কবিতা লিখেছেন ইন্দোরি। এই খ্যাতিনামা উর্দু পন্ডিত-কে দেশের অন্যতম বড় 'মুশায়রা' বলা হত। শুধু তাই নয় সাদাকে সাদা কালো কে কালো বলার সাহস ছিল তাঁর। এছাড়া গীতিকার হিসাবেও তাঁর নাম ছিল। তাঁর লেখা বিখ্যাত গানগুলির মধ্যে রয়েছে 'করিব' ফিল্মের 'চোরি চোরি যব নাজরেঁ মিলি', ঘাতক ফিল্মের 'কোই যায়ে তো লে আয়ে', 'ইশক' ছবির 'নিদ চুরায়ে মেরি' ইত্যাদি।