দৈনিক ৮০ হাজারের মানুষ করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছেন। আক্রান্তের সংখ্যা ৬৩ লক্ষেরও বেশি। লকডাউনের ১৮০ দিনেরও বেশি সময় পরে এটাই ভারতের বাস্তব চিত্র। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে আনলক ৫। আর পঞ্চম পর্যায়ের এই আনলকে স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। করোনাভাইরাস সংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুল আবারও স্কুল খুলে দেওয়ার জন্য রাজ্যসরকারগুলির কাছে নির্দেশিকা পাঠান হয়েছে। 


গত আট মাস ধরেই ভারত করোনাভাইরাসের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। প্রথম দফায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লকডাউন ঘোষণার পর গত মার্চ মাস থেকেই বন্ধ রয়েছে স্কুল। দীর্ঘদিন ধরেই বাড়িতে বসে রয়েছে পড়ুয়ারা। এই অবস্থায় স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বারাষ্ট্র মন্ত্রক। তারপরই একটি সমীক্ষা করেছিল লোকাল সার্কেল নামে একটি সংস্থা।  

বেসরকারি সংস্থাটি ২১৭টি জেলা জুড়ে সমীক্ষা চালিয়েছিল। সাড়ে ১৪ হাজারেও বেশি অভিভাবকদদের কাছে সংস্থাটি গিয়েছিল। শহরের পাশাপাশি গ্রামেও সমীক্ষা চালিয়ে দেখেছিল সংস্থাটি। সংস্থাটির প্রশ্নই ছিল 

সরকার যদি অক্টোবর থেকে স্কুল খুলে দেয় তাহলে কি আপনি আপনার সন্তান বা নাতি নাতনিকে নিয়ে স্কুল পাঠাবেন? 
উত্তরে ৭১ শতাংশ মানুষই জানিয়েছেন তাঁরা তাঁদের সন্তান বা নাতি নাতনিকে স্কুলে পাঠাবেন না। 
মাত্র ২০ শতাংশ অভিভাবক জানিয়েছেন তাঁরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাবেন। 
মাত্র ৯ শতাংশ অভিভাবক এবিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেনননি। 


গত অগাস্ট মাসে এই জাতীয় একটি সমীক্ষা করেছিল লোকাল সার্কেলস। সেখানে ২৩ শতাংশ মানুষই বলেছিলেন যে তাঁরা তাঁদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাবেন। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে সংখ্যাটা ২৩ থেকে ২০তে নেমে এসেছে। 

করোনাভাইরাসের সংক্রমণকালে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানেবন কি না এই প্রশ্নের উত্তরে এক মাসে ২৩ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নেমে এসেছিল মতামতের সংখ্যা। 

তামিলনাড়ু আর ত্রিপুরার মত রাজ্যগুলি জানিয়েছে পয়লা অক্টোবর থেকেই স্কুল খোলা হবে। অভিভাবকের পরামর্শ নিয়ে ক্লাস ১০-১২ শ্রেণির পড়ুয়ারা স্কুলে আসতে পারে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে লোকাল সার্কেলস আরও একটি সমীক্ষা চালায়। তাঁরা অভিভাবকদের কাছে জানতে চেয়েছিল অক্টোবরের পরিবর্তে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখা ঠিক কিনা? পাশাপাশি জানতে চাওয়া হয়েছিল চলতি শিক্ষাবর্ষে স্কুল খোলা নিয়েও মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল। 

প্রশ্ন করা হয়েছিল 
করোনাভাইরাসের এই সংক্রমণ আর আসন্ন উৎসবের মরশুমের কারণে স্কুল খোলা নিয়ে কী মত ?

যার অর্থ মাত্র ২৮ শতাংশই ডিসেম্বরের আগে স্কুল খোলার পক্ষে মত দিয়েছেন। কিন্তু ৩৪ শতাংশ মানুষই আগামী শিক্ষাবর্ষের আগে স্কুল খোলার বিরোধিতা করেছেন। 


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী অক্টোবর থেকেই স্কুল খুলো হবে। কিন্তু অক্টোবর জুড়েই রয়েছে উৎসবের মরশুম। আর সেই কারণে ছুটি থাকবে অনেক স্কুলে। তাই কিছুটা হলেও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।