গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। বিভিন্ন স্কুলে চলছে অনলাইন ক্লাস । ফলে স্কুল কর্তৃপক্ষের ওপর পরিকাঠামো সংরক্ষণের খরচ সেই অর্থে নেই। তাহলে পড়ুয়াদের ওপর থেকে খরচের বোঝা কেন কমাচ্ছে না স্কুল, মঙ্গলবার এমনই প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। 

শীর্ষ আদালতের দাবি অনলাইনে ক্লাস চলায় সেভাবে কোনও মেরামতি খরচ বা আনুষাঙ্গিক খরচ মেটাতে হচ্ছে না কোনও স্কুলকে। তাই ফিজ কমানো হোক পড়ুয়াদের। এতে অভিভাবকদের ওপর চাপও কমবে। উল্লেখ্য করোনা পরিস্থিতির জেরে গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অনলাইনে ক্লাস চালাচ্ছে স্কুলগুলি। কিন্তু কোথাও বেতন কমানোর উল্লেখ করা হয়নি। 

আরও পড়ুন - আজই রাজ্যে আসছে ৪ লক্ষ ভ্যাকসিন, কোভিড রুখতে কোভিশিল্ড পাঠাচ্ছে কেন্দ্র

ফিজ না কমানোয় অবিভাবকদের মনেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। এদিন আদালত বলেছে, সরাসরি কোনও ক্লাস স্কুলে গিয়ে করতে হচ্ছে না। কার্যত তালাবন্ধ স্কুল। ফলে বিদ্যুত বিল, জলের খরচ, জেনারেটর খরচ, স্টেশনারি চার্জ দিতে হচ্ছে না স্কুলগুলিকে। বার্ষিক করচের পরিমাণ স্কুলের কমে এসেছে অনেকটাই। তাহলে পুরোনো কাঠামো অনুযায়ী ফিজ কেন নেওয়া হচ্ছে পড়ুয়াদের থেকে। সেই ফিজও কম করে দেওয়া হোক।  

এক নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে এই তথ্যগুলি সামনে রেখে স্কুলগুলিকে বার্ষিক ১৫ শতাংশ ফিজ কমিয়ে আনা উচিত। রাজস্থান সরকারকে এমনই নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। উল্লেখ্য, রাজস্থানের বেশ কয়েকটি প্রাইভেট স্কুল রাজস্থান সরকারের নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। রাজস্থান সরকারের নির্দেশ ছিল অনলাইন ক্লাস চলার জন্য পড়ুয়াদের ওপর থেকে খরচের বোঝা কমাতে হবে ৩০ শতাংশ। 

২০২০-২১ অর্থবর্ষেই এই নির্দেশ লাগু করার কথা বলা হয়। তারই বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায় প্রাইভেট স্কুলগুলি। তবে সেই আবেদন উড়িয়ে রাজস্থান সরকারের পাশেই দাঁড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। স্কুলগুলিকে আরও মানবিক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে দেশের শীর্ষ আদালতের পক্ষ থেকে। বিচারপতি এ এম খানউইলকরের ডিভিশন বেঞ্চ এদিন গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেন এই ইস্যুতে। 

উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতিতে স্কুল আপাতত বন্ধ দেশের বেশিরভাগ রাজ্যে। ফলে বাড়িতে বসেই অনলাইন ক্লাস করছে পড়ুয়ারা। অভিভাবকরাও এই কারণের ফিজ কমানোর পক্ষে সরব হয়েছেন।