রবিবার গভীর রাত আনুমানিক ২.১৫ নাগাদ অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধওয়ান মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র থেকে জিএসএলভি রকেটে চন্দ্রযান ২ পাড়ি দেবে চাঁদের উদ্দেশে। ভারতের এই দ্বিতীয় চন্দ্রাভিযানেরর যাঁরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দুই মহিলা রীতু কারিঢাল এবং মুথায়া বনিতা। 

রকেট উৎক্ষেপণের মিশন ডিরেক্টর হলেন রীতু কারিঢাল এবং এই অভিযানের প্রজেক্ট ডিরেক্টরের দায়িত্বে রয়েছেন মুথায়া বনিতা। আর সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তিনিই ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর একমাত্র মহিলা প্রজেক্ট ডিরেক্টর। আর এই গোটা অভিযানটিতেই সকলের শীর্ষে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনিই। তাঁর প্রাপ্তির ঝুলি কিন্তু পরিপূর্ণ। চলতি বছরের জনপ্রিয় বিজ্ঞান পত্রিকা 'নেচার'-এর সেরা বিজ্ঞানীর পুরস্কারও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। এর আগে ২০০৬-এ আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সংস্থারও পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর কোনওদিনও সেই অর্থে প্রকাশ্যে না এলেও একা একাই বিজ্ঞানের জটিল কঠিন তথ্য সহজেই বিশ্লেষণ করেন তিনি। 

পাশাপাশি লখনউ বিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যার ছাত্রী রীতু কারিঢাল-এর কাঁধে রয়েছে উৎক্ষেপনের মতো গুরুদায়িত্ব। হাসি-খুশি মিষ্টি স্বভাবের রীতু তাঁর কাজের প্রতি যে চরম একাগ্র জানা গিয়েছে ইসরো সূত্রেই। কাজের প্রতি ভালবাসা থেকেই টানা কাজ করে যাওয়ার মানসিকতা রয়েছে রীতুর। তাঁর ফেসবুক প্রোফাইল দেখলেই বোঝা যায় যে তিনি খুবই পরিবারকেন্দ্রীকও। তবে কাজের ক্ষেত্রে অত্যন্ত পারফেকশনিস্ট। 

প্রসঙ্গত এবারের চন্দ্রাভিযানে মহিলা বাহিনীর তালিকাটা কিন্তু মোটেই ছোট নয়। তবে পুরুষদের মধ্যেও কিন্তু বাঙালির যোগসূত্র রয়েছে। চন্দ্রাভিযানে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন চন্দ্রকান্ত কুমার। হুগলি নিবাসী বেলুড় রামকৃষ্ণ মিশন এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র চন্দ্রকান্ত কুমার প্রথম চন্দ্রাভিযানেও গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করেছেন। ভারতের মাটিতে বসানো অ্যান্টেনা এবং চন্দ্রযান নির্মাণদলের কাণ্ডারী হলেন চন্দ্রকান্ত কুমার। সবমিলিয়ে মহিলা বাহিনী এবং বাঙালির যোগে এবারের চন্দ্রাভিযানের সাফল্যই কামনা করছেন আপামোর ভারতবাসী।