রবিবারই আসতে পারে বড় ত্যাগের ঘোষণা। আজকালকার দিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ফলোয়ার্স বাড়াতে লোকে কী না করে। আর বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোমবার সকলকে অবাক করে জানালেন আগামী রবিবারের মধ্যে তিনি নিজের টুইটার, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি। কিন্তু কেন তাঁর এই ভাবনা চিন্তা তা ব্যাখ্যা করেননি তিনি। সোমবার রাতে হঠাৎই প্রধানমন্ত্রী টুইট করে এই কথা জানিয়ে বলেন কি করবেন তা তিনি টুইটারেই জানাবেন।

বর্তমানে টুইটারে নরেন্দ্র মোদীর ফলোয়ার্স সংখ্যা ৫ কোটি ৩৩ লক্ষ। এছাড়া ফেসবুকে ৪ কোটি ৪০ লক্ষ, ইনস্টাগ্রামে ৩ কোটি ৫২ লক্ষ এবং ইউটিউবে ৪৪ লক্ষ সাথে ফলোয়ার্স রয়েছে। বিশ্বের তাবড় রাষ্ট্রনেটাদের মধ্যে অন্তত সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলোয়ার্স-এর সংখ্যার নিরিখে জনপ্রিয়তম তিনি। তাঁর হাতে গরম প্রমাণ, সোশ্যাল মিডিয়া ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়ে যে টুইটটি এদিন তিনি করেছেন, তা পোস্টের এক ঘন্টার মধ্যেই ৫১ হাজারের বেশি মানুষ লাইক করেছেন, কমেন্ট করেছেন ৩৩ হাজার জন আর রিটুইট করেছেন ১৭ হাজার জন।

২০০৯ সালে তিনি টুইটার এবং ফেসবুকে যোগ দিয়েছিলেন। তারপর থেকে সোশ্য়াল মিডিয়ায় তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি দেখা গিয়েছে। তাঁর করা প্রতিটি পোস্ট কয়েক মিনিটের মধ্যেই হাজার হাজার লাইক পায়। হাজার হাজার লোক কমেন্ট করে। এমন জনপ্রিয় একজন নেতা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কেন নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন তাই নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চর্চা শুরু হয়েছে।

দিল্লির সাম্প্রতিক হিংসা থেকে শুরু করে সিএএ নিয়ে প্রতিবাদ বা প্রতিবাদীদের উপর দিল্লি পুলিশের গুলিচালনার মতো সাম্প্রতিক বেশ কিছু অস্বস্তিকর বিষয় এড়িয়ে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কখনও কোনও মন্তব্যই করেননি। আবার কখনও অনেক পরে দায়সারা গোছের মন্তব্য করেছেন। দিল্লির ঘটনা নিয়েই যেমন তিন দিন পর তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া এসেছিল।

অনেকে আবার বলছেন প্রযুক্তি থেকে নিজেকে কিছুটা হলেও মুক্ত করতে চাইছেন মোদী। আবার অনেকে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মোদী একটিও একক সাংবাদিক সম্মেলন করেননি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাও তাঁর ভাবনা চিন্তা টের পাওয়া যেত। সেখান থেকেও নিজেকে সরিয়ে নিলে তাও জুটবে না।