ভগত সিং, সুখদেব ও রাজগুরু-কে নির্ধারিত সময়ের আগে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল, ঠিক কি ঘটেছিল সেদিন

| Mar 23 2022, 10:13 AM IST

ভগত সিং, সুখদেব ও রাজগুরু-কে নির্ধারিত সময়ের আগে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল, ঠিক কি ঘটেছিল সেদিন

সংক্ষিপ্ত

লাহোর ষড়যন্ত্র মামলায় বীর দেশপ্রেমিকদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল এবং ২৪ মার্চ, ১৯৩১-এ ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে, ফাঁসির নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১১ ঘন্টা আগে, ২৩ মার্চ, ১৯৩১-এ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
 

২৩ মার্চ, ভারতে শহীদ দিবস হিসাবে পালিত হয়। এই দিনটি দেশের জন্য খুবই বিশেষ। ১৯৩১ সালের এই দিনে স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের তিন সন্তানকে লাহোর কেন্দ্রীয় কারাগারে মৃত্যুদণ্ডকে আলিঙ্গন করেছিলেন। শহীদ ভগৎ সিং, সুখদেব এবং রাজগুরুর এই তিন শহীদের কথা বলছি।  লাহোর ষড়যন্ত্র মামলায় বীর দেশপ্রেমিকদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল এবং ২৪ মার্চ, ১৯৩১-এ ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে, ফাঁসির নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১১ ঘন্টা আগে, ২৩ মার্চ, ১৯৩১-এ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
১৯২৮ সালের নভেম্বরে ভারতের অন্যতম বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী, লালা লাজপত রাই-এর মৃত্যুর পর, তিনজন এই হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ নেন। লাজপত, যিনি সাইমন কমিশনের বিরুদ্ধে অহিংস প্রতিবাদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, অনেক তরুণ ভারতীয়কে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দিতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। ব্রিটিশ পুলিশ অফিসার জেমস এ স্কট, যিনি তার নিষ্ঠুর আচরণের জন্য কুখ্যাত ছিলেন তার নির্দেশে একটি প্রাণঘাতী লাঠিচার্জের সময় লালালাজপত রাই আহত হয়ে মারা যান।

Subscribe to get breaking news alerts


ব্রিটিশ বাহিনীকে পাঠ শেখানোর উদ্দেশ্য নিয়ে, ভগৎ সিং, রাজগুরু এবং সুখদেব স্কটকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিলেন। ভগত সিং প্রকাশ্যে স্কটকে ফাঁসি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। যাইহোক, এই ব্রিটিশ পুলিশ অফিসার জন সন্ডার্সকে স্কটের জন্য ভুল করে এবং তাকে মারাত্মকভাবে গুলি করে বলে অভিযোগ। গোলাগুলির পরে, ভগৎ সিং তার স্বাধীনতা সংগ্রাম চালিয়ে যান। এদিকে, ব্রিটিশরা সন্ডার্সের হত্যার জন্য তিন মুক্তিযোদ্ধাকে অভিযুক্ত করে।
১৯২৯ সালের এপ্রিলে, ভগৎ সিং তার সহযোগী বটুকেশ্বর দত্তের সঙ্গে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় বিধানসভার ভিতরে কাউকে আঘাত না করে দুটি বোমা ছোড়েন এবং ব্রিটিশের হাতে আটক হন। তখন তারা স্বাধীনতা সংগ্রামের বিখ্যাত স্লোগান, "ইনকিলাব জিন্দাবাদ" বা "বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোক" বলে নিজেদেরকে গ্রেফতার করার অনুমতি দেয়।
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে এই তিনজনের অবদান অমূল্য। ভারত মাতার সাহসী পুত্ররা প্রজন্মকে তাঁদের অধিকার এবং স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। আজ তাঁদের শহীদ দিবসে আসুন স্মরণ করি আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগকে সেলাম জানাই।

 
Read more Articles on