ভাজাভুজি, তৈলাক্ত খাবার, লোভনীয় বিলাসবহুল খাদ্যপদ বাদ পড়ল চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি বা পিএলএ-এর খাদ্যতালিকা থেকে। এখন থেকে তাদের খেতে হবে সিদ্ধ করা শাকসব্জি। তাহলে কি সেনাসদস্যদের খাওয়াতে পারছেন না শি জিনপিং?

পুরোপুরি তা না হলেও, বিষয়টা অনেকটাই সেইরকম। কোভিড-১৯ মহামারির প্রেক্ষিতে এই বছর চিনা অর্থনীতি অনেকটাই সংকুচিত হয়েছে। তার উপর চিনে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। যার জেরে জিনপিং-এর দেশে এখন খাদ্য সংকটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায়, দেশকে সংকটমুক্ত করতে জিনপিং-এর দাওয়াই, খাবার নষ্ট করা চলবে না। তিনি বলেছেন, খাবার নষ্ট করার বিষয়টি 'অবাক করা ও বিরক্তিকর'।

জিনপিং শুধু যে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক তাই নয়, তার পাশাপাশি সেই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর প্রশাসনিক সংস্থা কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের প্রধান-ও বটে। তাঁর এই খাদ্য নষ্ট বন্ধের ডাকে সাড়া দিয়েই বাহিনীর সদস্যদের নতুন খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে চাইছে পিএলএ। এমনটাই জানা গিয়েছে।

বলা হয়েছে, ১৯৭৮ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত পিএলএ সদস্যদের ডায়েটে প্রধানত মাংস এবং শাকসব্জির অংশ বাড়িয়ে, তাদের প্রশিক্ষণ এবং লড়াইয়ের প্রয়োজনীয় পুষ্টির মান উন্নত করা হয়েছে। ২০০০ সাল থেকে সুষম পুষ্টির দিকে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। এখন বলা হচ্ছে 'গ্রিন ইন্টেলিজেন্ট ওয়ে' অর্থাৎ সবুজ, বুদ্ধিদীপ্ত পন্থায় তৈরি রান্না দেওয়া হবে বাহিনীর সদস্যদের। এর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে নতুন নতুন প্রযুক্তি।

এর মধ্যে রয়েছে, উন্নত রান্নার সরঞ্জামের প্রয়োগ। উন্নত রান্নার সরঞ্জাম বলতে রয়েছে, উচ্চ-দক্ষতা সম্পন্ন শক্তি-সঞ্চয়ী স্টোভ, সর্বজনীন স্টিমিং ওভেন, রোবট রাঁধুনি, যন্ত্র এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে খাবারের তৈরির পদ্ধতির উন্নয়ন, রান্নার শ্রম হ্রাস করা, এবং রান্নায় শক্তির ব্যবহার হ্রাস করা। ইতিমধ্যেই সেনা সদস্যদের উপযুক্তত খাবার তৈরি এবং খাদ্য অপচয় কমাতে রোবট রাঁধুনিদের মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।