কোভিড মহামারির মতো স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরী পরিস্থিতির মোকাবিলায়, আন্তর্জাতিক মহলে চমকে দেওয়া প্রস্তাব সুপারিশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার 'কোভিড -১৯ পরিচালন' শীর্ষক ১০ দেশকে নিয়ে পরিচালিত এক কর্মশালায় ভাষণ দিতে গিয়ে একদিকে প্রধানমন্ত্রী প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে সহযোগী মনোভাব বজায় রাখার সুপারিশ করেন, অন্যদিকে জরুরি অবস্থায় স্বাস্থ্য পরিষেবা কর্মীদের জন্য এক বিশেষ ভিসা প্রকল্পেরও প্রস্তাব করেছেন।

এদিন প্রতিবেশী দেশের নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, গত এক বছরে কোভিড মোকাবিলায় এশিয দেশগুলির মধ্যে স্বাস্থ্য-সহযোগিতা এক অভূতপূর্ব উচ্চতা অর্জন করেছে। ভ্যাকসিনের বিকাশ এবং বিতরণের জন্যও এই সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মনোভাব ধরে রাখতে হবে। এছাড়া কোভিড মহামারির মতো স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি পরিস্তিতিতে যাতে এক দেশ থেকে অন্য দেশে, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্য পরিষেবা কর্মীরা দ্রুত পৌঁছে যেতে পারেন, তার জন্য একটি বিশেষ ভিসা প্রকল্প তৈরি করার বিষয়ে বিবেচনা করার পরামর্শ দেন। তবে এই ক্ষেত্রে সাহায্যপ্রার্থী দেশগুলিকে আগে অনুরোধ জানাতে হবে।

তবে শুধু ভ্যাকসিনের বিকাশ ও বিতরণের ক্ষেত্রেই নয়, অন্যান্য ক্ষেত্রেও এই সহযোগী মনোভাব বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে জানান নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর মতে একবিংশ শতাব্দী হতে চলেছে দক্ষিণ এশিয়ার শতাব্দী। আর এর জন্য দক্ষিণ এশিয়া ও ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলির মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজন।

বস্তুত, এই সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের হাত প্রথম বাড়িয়ে দিয়েছে ভারতই। গত শুক্রবারই বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারত বিশ্বব্যাপী এখনও পর্যন্ত মোট ২২৯.৭ লক্ষ ডোজ করোনাভাইরাস টিকা সরবরাহ করেছে। এর মধ্যে ৬৪.৭ লক্ষ ডোজ অনুদান হিসাবে সরবরাহ করা হয়েছে এবং ১৬৫ লক্ষ ডোজ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সরবরাহ করা হয়েছে। আগামী দিনে নয়াদিল্লি আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশ এবং আরও অনেক প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রে ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে।