করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে লকডাউনের পথেই হেঁটেছিল সরকার। আর তাতেই বিড়ম্বনা। লকডাউনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায়  একদল মানুষ। পুলিশের সঙ্গে শুরু হয়ে যায় সংঘর্ষ। ক্রমেই তা চরম আকার নেয়। আর শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনকে সরকারকে ট্যাঙ্ক নামাতে হয়। আর এই সংঘর্ষের কারণে এখনও জন্য আহত হয়েছে ৪৫ জন। ভয়ঙ্কর এই ঘটনার সাক্ষী ছিল লেবাননের রাজধানী ত্রিপোলি। 

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে লকডাউনের মেয়াদ আরও দুসপ্তাহ বাড়িয়ে দিয়েছিল লেবানন সরকার। তাতেই ক্ষেপে ওঠে স্থানীয় বাসিন্দারা। লকডাউন কার্যকর করতে না দেওয়ার জন্য তারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায়। পাল্টা পুলিশের ওপরেও হামলা চালায়। পাল্টা পুলিশ ক্যাঁদানে গ্যাসের সেল  ও রবাট বুলেটের সাহায্য নেয়। প্রতিবাদীরা পুলিশের দিকে লক্ষ্য করে পাথর ও বোতাল ছুঁড়তে থাকে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। তারপরই রাস্তায় ট্র্যাঙ্ক নামিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ট্যাঙ্ক সরিয়ে নেওয়া হয় রাস্তা থেকে। 


মহামারি রুখতে প্রথম থেকে কঠোর অনুশাসনের পথে হেঁটেছে লেবানন। কিন্তু বছরের শেষে ছুটিতে লকডাউনের নিয়ম শীথিল করা হয়। পরিবারগুলিকে একত্রিত হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। দুপুর তিনটে পর্যন্ত বার খোলা রাখার ছাড়পত্র দিয়েছিল সরকার। তারপরই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। এই অবস্থায় লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের ওপর চাপ বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও একবার কঠোর লকডাউনের দিকেই হাঁটে স্থানীয় সরকার। বর্তমানে লেবাননে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লক্ষ ৮৫ হাজার। মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৪৭০ জনের। গত বছর অগস্ট মাসে লেবাননে একটি বিস্ফোরে কমপক্ষে ২০০ জনের মৃত্যু হয়। তারপর থেকেই দেশটির অর্থনীতি ধুঁকছে।