সোমবার ফের একবার ব্রিটেনের সঙ্গে ভারতের বিমান চলাচল স্থগিত করে দেওয়া হল। এদিন ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক ঘোষণা করেছে সম্প্রতি ব্রিটেনে নভেল করোনাভাইরাসের যে একটি নতুন অতি-সংক্রামক স্ট্রেইন ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে সেই দেশের সরকার, তার পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারির প্রেক্ষিতে লকডাউন ঘোষণার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ভারত সমস্ত আন্তর্জাতিক বিমান যাত্রা শুরু করতে পারেনি। তবে যুক্তরাজ্যের মতো কয়েকটি দেশের সঙ্গে বাবল যোগাযোগ গড়ে আন্তর্জাতিক বিমান চালানো হচ্ছিল। রবিরারই, যুক্তরাজ্য থেকে আসা এক দম্পতির মাধ্যমে ইতালিতে নতুন করোনা স্ট্রেইনটি ছড়িয়ে পড়ার কথা জানা গিয়েছিল। তারপরই ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশও যুক্করাজ্যের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ বাতিল করে দিয়েছে।

এদিন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক ঘোষণা করেছে, মঙ্গলবার ২২ ডিসেম্বর, রাত ১১টা ৫৯ মিনিট থেকে এই স্থগিতাদেশ কার্যকর করা হবে। জারি থাকবে ৩১ ডিসেম্বর, রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়কালে যুক্তরাজ্য থেকে কোনও বিমান আসতে দেওয়া হবে না। প্রসঙ্গত আগামী বছর ২৬ জানুয়ারী প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি হিসাবে ভারতে আসার কথা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন-এর। তার আগে ব্রিটেনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে, তাঁর সফরও বাতিল হতে পারে। করোনাভাইরাস মহামারি বিশ্বব্যপী ছড়িয়ে পড়ের পর থেকে কোনও বড় রাষ্ট্রনেতা ভারত সফরে আসেননি।

সোমবারই, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গহলোট এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ব্রিটেনে ঠছড়িয়ে পড়া নয়া অতিসংক্রামক করোনা স্ট্রেইনটির যাতে ভারতে ছড়িয়ে না পড়, তার জন্য ভারত সরকারকে, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে উড়ান যোগাযোগ অবিলম্বে নিষিদ্ধ করার আর্জি জানিয়েছিলেন। তবে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে সতর্ক রয়েছে। অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। রবিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিভাগের বিশেষজ্ঞদের একটি দল, সদ্য পাওয়া কোভিড স্ট্রেইনটি নিয়ে একটি পর্যালোচনা সভা করেছে। তারপরই এদিনের বড় সিদ্ধান্ত এল বলে মনে করা হচ্ছে।
 
রবিবার যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব ম্যাট হ্যানকক জানান, সেখানকার বিজ্ঞানীরা সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের একটি নতুন রূপভেদ চিহ্নিত করেছেন, যা আগের স্ট্রেইনগুলিক তুলনায় আরও দ্রুত সংক্রামিত হতে পারে। তারা ইতিমধ্যে এই নয়া রুপভেদটি সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-কে অবহিত করেছে। সেই দেশে নতুন করে লকডাউন-ও জারি করতে হয়েছে। তবে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন-এর বিশেষজ্ঞরা আশ্বস্ত করেছেন, যে কোভিড ভ্যাকসিনগুলি বা ভ্যাকসিন প্রার্থীগুলি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে, সেগুলি এই করোনার নয়া রূপের বিরুদ্ধেও সমান কার্যকর হবে।