দীর্ঘদিন ধরে মধুমেহ নামে শরীরের উপসর্গটি হচ্ছে হাল আমলের মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টিকারী  ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ। আজ বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। বর্তমানে ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।  ডায়াবেটিস এমন একটি সমস্যা যা বয়স, লিঙ্গ, নির্বিশেষে প্রায় প্রত্যেক মানুষকেই প্রভাবিত করে। ডায়াবেটিস দুই প্রকারের হয়। টাইপ ১ ডায়াবেটিস, টাইপ ২ ডায়াবেটিস। প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই টাইপ ২ ডায়াবেটিস হয়। এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। এখন কোনও লিঙ্গ বা বয়স হিসেবে নয় যে কোনও বয়সেই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারে মানুষ।

আরও পড়ুন-শীতকালে রুক্ষ ত্বকের সমস্যা, ত্বককে করে তুলুন সতেজ ও উজ্জ্বল সহজেই...

টাইপ ১ ডায়াবেটিস সাধারণত ৪০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে লক্ষ করা যায়।  ৪০ বছরের বেশী হলেই টাইপ ২ ডায়াবেটিসের প্রবণতা বেশি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ঝুঁকিও বেড়ে যায়। বিশেষত ৪৫ বছর বয়সের পরে জীনগত কারণে, অতিরিক্ত ওজন, খারাপ অভ্যাস, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদির কারণে  এই রোগ নয়।

আরও পড়ুন-মধ্যবিত্তের মুখে হাসি ফুটিয়ে ফের কমল সোনার দাম, জানুন কলকাতায় কত...

৪০ বছরের পরে মহিলাদের ডায়াবেটিসের লক্ষণ

যাদের বয়স  ৪০ পেরিয়েছে তাদের ডায়াবেটিসের হলে বেশ কিছু লক্ষণ রয়েছে। পুরুষ কিংবা মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রেই লক্ষণগুলি প্রায় একই। 
ব্যথা পেলে ধীরে ধীরে নিরাময় হওয়া, ঝাপসা দৃষ্টি, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, ঘন ঘন প্রস্রাব, ওজন কমে যাওয়া, মানসিক অবসাদ, বমি বমি ভাব, ত্বকের সংক্রমণ এই উপসর্গগুলি দেখা যায়। এছাড়া মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রস্রাবে সংক্রমণ, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম এগুলিও হতে পারে।

৪০ বছরের পরে মহিলাদের ডায়াবেটিসের কারণ

যখন শরীরে সঠিকভাবে ইনসুলিন উৎপাদন হয় না তখন অটোইমিউন অবস্থার বিকাশ ঘটে। রক্তে গ্লুকোজ তৈরি হয়। যার ফলে বিভিন্ন স্বাস্থ্য জটিলতা দেখা যায়। বিশেষত ৪০ বছরের পর এই সমস্যা গুলি বেশি দেখা যায়।  পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের ডায়াবেটিস বেশি হয়। ডায়াবেটিস হলে বেশ কিছু ঝুঁকি থেকে যায়। যেমন হার্ট অ্যাটাক, হার্টের রোগ, স্ট্রোক, অন্ধত্ব, মানসিক অবসাদ হতে পারে।

৪০ বছরের পরে মহিলাদের ডায়াবেটিসের চিকিৎসা

টাইপ ২ ডায়াবেটিস বেশিরভাগ ৪০ বছরের বেশি বয়সি মহিলাদেরই হয়। এই রোগের মূল চিকিৎসা হল ব্যায়াম করা, নিয়ম করে খাওয়া দাওয়া করা, নিয়মিত রক্তের গ্লুকোজ পরিমাপ করা। পুরুষদের ক্ষেত্রে ধূমপান থেকে বিরত থাকা। তবে যাদের ডায়াবেটিসের পরিমাণ অধিক থাকে তারা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে ইনসুলিনও নিতে পারেন।