২৬ ফেব্রুয়ারি ভোর রাতে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের বালাকোটে ঢুকে জঙ্গি ঘাঁটি গুড়িয়ে দেয় ভারতীয় বায়ুসেনা। বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায় প্রায় ৩৫০ জন জঙ্গি নিকেশ হয়েছে এই অভিযানে। জঙ্গি দমনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই মানুষের মধ্যে উৎসবের রোল শুরু হয়। কিন্তু তার পরেই ঘটনার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে।

প্রশ্ন ওঠে সত্যি কি জঙ্গি নিকেশ করা গিয়েছে! যদি ২৫০ জন জঙ্গি নিহতও হয়ে থাকে, তা হলে তা আকাশ থেকে রাতের অন্ধকারে বায়ুসেনা গুনলো কীভাবে! অবশেষে, দেশ বিদেশের সাংবাদিকদের বালাকোটের সেই এলাকা ঘুরে দেখাল পাকিস্তান।

পাক সেনার মুখপাত্র আসিফ গফুরের তত্বাবধানে সাংবাদিকরা এলাকা পরিদর্শন করেন। অধিকাংশ সাংবাদিকই ছিলেন দিল্লির।  আসিফ গফুর ‌টুইট করে জানিয়েছেন, প্রত্যেক সাংবাদিকই দেখেছেন বালাকোটের এই এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি বলতে কিছুই হয়নি।

ভারতীয় বায়ুসেনার হামলার পরেও পাক সরকার জানিয়েছিল, বালাকোটে কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। কোনও হতাহতেরও খবর নেই। পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এই ঘটনাকে মোদীর ভোটের রাজনীতি হিসেবেও ব্যাখ্যা করেন। এছাড়াও উপগ্রহ চিত্রেও কয়েকটি গাছের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া কিছু ধরা পড়েনি।

১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামাতে সেনা কনভয়ে এসে ধাক্কা মারে একটি বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি।শহিদ হন ৪৯ জন সেনা। পাক অধ্যুষিত জঙ্গি সংগঠন এই ঘটনার দায় স্বীকার করে। এই ঘটনারই জবাব দিতে বিমান হানা চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা। কিন্তু সেই ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি এখনও পরিষ্কার নয়।

সীমান্ত লঙ্ঘণ করায়, ভারতের বিমান হানার পরের দিনই রাজস্থানে সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকে পড়ে পাকিস্তানের যুদ্ধ বিমান। দুই দেশের যুদ্ধ বিমানের রেষারেষিতে পাকভূমে ঢুকে ভেঙে পড়ে ভারতীয় বায়ুসেনা অভিনন্দনের বিমান। তবে পাকিস্তানের বায়ুসেনা এলাকার সাধারণ মানুষের হাত থেকে উদ্ধার করে অভিনন্দনকে। খুব শীঘ্রই অভিনন্দনকে দেশে ফেরত পাঠায় পাকিস্তান।