জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ দাবি করেছিল পাকিস্তান। তবে আন্তর্জাতিক মহলে যতই প্রকট হোক না কেন কাশ্মীর ইস্যুতে কোনও দেশেই যে পাকিস্তানের সঙ্গে নেই তা পাকিস্তানের কাছে কার্যত স্পষ্ট। প্রসঙ্গত, কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের কোনও নালিশকেই কার্যত পাত্তা দেয়নি রাষ্ট্রসঙ্ঘ। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন আদায় করা যে পাকিস্তানের পক্ষে খুব একটা সহজ কাজ হবে না, তা খানিকটা স্বীকারই করে নিলেন পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। 

রবিবার পাকিস্তানে একটি সাংবাদিক বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন পাক বিদেশমন্ত্রী। সেই সাংবাদিক বৈঠকে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রদানকারী ৩৭০ ধারা রদ এবং জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ-কে দুটি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ভাগ করা প্রসঙ্গে ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয় যে এই বিষয়ে পাকিস্তানের তরফে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

এর উত্তরে কুরেশির সাফ জবাব, 'মুর্খের স্বর্গে বাস করে কোনও লাভ নেই। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের কেউ আমাদের জন্য ফুলের মালা হাতে অপেক্ষা করছে না। কোনও বিষয়ে আবেগ প্রকাশ করা খুব সহজ, আরও সহজ তার প্রতিবাদ করা। কিন্তু কোনও বিষয়কে বুঝে ঠিকমতো এগিয়ে যাওয়া কঠিন।' তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য দেশের মধ্যে যে কেউ, যে কোনও মুহূর্তে বেঁকেও বসতে পারে। 

প্রসঙ্গত, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে গত সপ্তাহেই একটি বিবৃতি প্রকাশ করে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া। এই পরিস্থিতিতে ইসলামিক দেশগুলিকে এই বিষয়ে নিজের পাশে পাওয়ার মরিয়া চেষ্টা করছে পাকিস্তান। কাশ্মীর ইস্যু জানাতে পাক প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্য়েই ফোন করেছেন ব্রিটেন এবংমালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট, সৌদির যুবরাজ এবং বাহরিনের রাজাকে-ও। পাশাপাশি রাষ্ট্রসঙ্ঘেও একটি প্রতিনিধি দলও পাঠিয়েছে পাকিস্তান। কূটনৈতিক মহলের ধারণা এই পরিস্থিতিতে রাতারাতি কোনও কিছু যে হওয়া সম্ভব নয় সেই বার্তাই উঠে এসেছে শাহ মেহমুদ কুরেশির বক্তব্যে।