বাবা থেকেও নেই। লোকের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে একাই তাকে মানুষ করছেন মা। অভাবের সংসারে বিপথগামী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল ষোলোআনা। কিন্তু তা তো হয়ইনি, বরং পড়াশোনা ফাঁকে স্কুলছুটদের স্কুলে ফেরানো, নাবালিকা বিয়ে রোধের মতো সামাজিক কাজে এগিয়ে এসেছে এক কিশোর। মিলেছে স্বীকৃতিও।  ওই কিশোরকে 'বীরপুরুষ' পুরস্কার দিয়েছে রাজ্য সরকারের চাইল্ড প্রোটেকশন অ্যান্ড চাইল্ড রাইট কমিশন।

কিশোরের নাম অনিমেষ মণ্ডল। বিদ্যার্থী ভবন স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র সে। বর্ধমানের বীরহাটার একটি বসতিতে টালির চালার ঘরে মা ও মামার সঙ্গে থাকে অনিমেষ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন,  বছর দশেক যখন স্বামী ছেড়ে চলে যায়, তখন শিশুপুত্রকে নিয়ে বীরহাটার বসতিতে ভাইয়ের কাছে চলে আসেন অনিমেষের মা। রুটি বিক্রি করে সামান্য যা আয় করেন, তা দিয়েই সংসারটিকে আগলে রেখেছেন অনিমেষের মামা লালটু মাহাতো। আর তার মা লোকের বাড়িতে পরিচারিকা কাজ করেন।  অভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর দশা। কোনওমতে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে অনিমেষ। শুধু তাই নয়, সামাজিক কাজেও পিছিয়ে নেই অভাবী পরিবারের ছেলেটি। গত তিন বছরে  ৫ জন নাবালিকার বিয়ে রুখে দিয়েছে সে। স্কুলে ফিরিয়েছে বীরহাটার বস্তির ৯ জন শিশুকেও। তারই স্বীকৃতি এবার অনিমেষ মণ্ডলকে 'বীরপুরুষ'  পুরস্কার দিয়েছে রাজ্য সরকারের চাইল্ড প্রোটেকশন অ্যান্ড চাইল্ড রাইট কমিশন। 

জানা গিয়েছে, ২০১১ সালে বর্ধমানের বীরহাটা বসতি আসেন ওয়ার্ল্ড ভিসন ইন্ডিয়া নামে একটি সংস্থার প্রতিনিধিরা। তাঁদের হাত ধরেই বাল্যবিবাহ রোধ, শিশু সুরক্ষা-সহ বিভিন্ন সমাজ সচেতনতামূলক  কাজে জড়িয়ে পড়ে অনিমেষ।  ২০১৫ সালে তাকে স্থানীয় চিলড্রেন ক্লাবের সভাপতি করেন ওই সংস্থার প্রতিনিধিরাই।  তার মতোই ১৫০ জন ছেলে-মেয়ে নিয়ে দল তৈরি করে বর্ধমানে বাল্যবিবাহ রোধ, স্কুলছুটদের স্কুলে ফেরানো-সহ বিভিন্ন কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লাগাতার প্রচার চালিয়ে গিয়েছে অনিমেষ। সামাজিক কাজ তো চলবেই, পড়াশোনা শেষে অভিনয় জগতে আসতে চায় ওই কিশোর।  তার কীর্তিতে গর্বিত মা-মামা ও প্রতিবেশীরাও।