ঘূর্ণিঝড় যশ তাণ্ডব চালাল উপকূলবর্তী এলাকায়। জলোচ্ছাসের ফলে বাঁধ ভেঙে জল ঢুকেছে গঙ্গাসাগরে বিভিন্ন এলাকায়। নদীতে প্রবল জলোচ্ছাসের ফলে বাঁধ ভেঙে জলমগ্ন গঙ্গাসাগর। এদিকে, সাইক্লোন যশের হাত থেকে বাঁচাতে গ্রামবাসীকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ফ্লাড সেন্টারগুলিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে সমস্যা মেটেনি। 

ত্রাণ শিবিরে মাথার ওপর ছাদ পেলেও তিন থেকে চার দিন ধরে খাবার পাচ্ছেন না সেখানকার দুর্গতরা। ফলে ক্ষোভ বাড়ছে। বাড়ি থেকে আনা মুড়ি ও জল খেয়ে দিন কাটছে তাঁদের। পরিবার নিয়ে রীতিমত সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। তবু প্রশাসনের কোনও আধিকারিকের দেখা নেই। 

এমই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখা গেল গঙ্গাসাগরে মুড়িগঙ্গার ফ্লাড সেন্টারে। ওই ফ্লাড সেন্টারে থাকা মানুষজনের অভিযোগ তারা তিন দিন ধরে কোন খাবার পাচ্ছেন না, এই নিয়ে তারা সেন্টারে ভিতরে ও বাইরে বিক্ষোভ দেখায়। দ্রুত প্রশাসনের পদক্ষেপ দাবি করেছেন তাঁরা। 

এদিকে, কলকাতা থেকে ঘূর্ণিঝড়ের বিপদ কেটে গেলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বইছে হাওয়া। এই মুহূর্তে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় থেকে শক্তিক্ষয় হয়ে সাধারণ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে যশ। সকাল থেকেই শহরের আকাশ ছিল মেঘলা। বেলা গড়াতেই শুরু হয় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি।

অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় থেকে শক্তিক্ষয় হয়ে সাধারণ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে যশ। ওড়িশা থেকে ঝাড়খন্ডের দিকে সরে গিয়েছে। যাওয়ার পথে প্রবল বর্ষণ ঘটিয়েছে যশ। বৃহস্পতিবার সকালে ঝাড়খন্ডে যশ ঘূর্ণিঝড়ের ঘতিবেগ ৫৫ কিমি প্রতি ঘন্টায় এসে দাড়িয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, গঙ্গার কাছাকাছি কালীঘাট, রাসবিহারী এবং ভবানীপুরের একাংশ জলমগ্ন হয়েছে। গঙ্গা সংলগ্ন এলাকায় যেখানে যশের পর জল জমেছে, সেই এলাকাগুলিতে সতর্ক থাকতে হবে। যাতে কেউ বিদ্যুৎ পৃষ্ট না হয়ে যায়, তাই এদিন বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ রাখতে বলেছেন রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদ এবং সিইএসসিকে।