সারদা কাণ্ডে রাজীব কুমারকে নিয়ে সিবিআইয়ের দায়ের করা মামলায় শুক্রবারই রায় দিয়েছে আদালত। সেই রায়ে রাজীবের সমস্যা যেমন অনেকটা বেড়েছে, একইসঙ্গে কলকাতার প্রাক্তন নগরপালকে সামান্য হলেও স্বস্তি দিয়েছে শীর্ষ আদালত। 

প্রথমত, রাজীব কুমারকে দেওয়া নিজেদের রক্ষাকবচ এ দিন প্রত্যাহার করে নিয়েছে শীর্ষ আদালত। যার ফলে রাজীবকে গ্রেফতার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে পারবে সিবিআই। কিন্তু একইসঙ্গে একটি শর্ত দিয়েছে শীর্ষ আদালত। রায়ে বলা হয়েছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে রাজীবকে গ্রেফতার করতে পারবে না সিবিআই। এই সাতদিনের মধ্যে রাজীব কুমার উপযুক্ত কোনও আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করতে পারবেন। আর একবার আগাম জামিনের আবেদনকরে দিলে সেই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রাজীবকে গ্রেফতার করতে পারবে না সিবিআই। ধরে নেওয়া যাক, রাজীব আবেদন করার  সাতদিনের মধ্যেই যদি আগাম জামিনের আবেদনের মামলার নিষ্পত্তি হয়ে যায়, তাহলেও সেই রায় তাঁর বিপক্ষে গেলেও রাজীবের ভরসা হতে পারে আগামী তেইশে মে-র ফলাফল।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত আস্থাভাজন অফিসার রাজীব, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। সিবিআই-এর সঙ্গে লড়াইতেও তাঁর ভরসা হতে পারেন মমতাই। নজিরবিহীনভাবে তাঁর সমর্থনে ধর্নাতেও বসেছেন তিনি। প্রকাশ্যেই বার বার রাজীবের পাশে দাঁড়িয়েছেন মমতা তেইশে মে ভোটের ফলাফলের পরে যে অনেক কিছুই বদলে যেতে পারে, তা ভাল ভাবে জানেন রাজীবও। মুখ্যমন্ত্রী বার বার বলেছেন, নরেন্দ্র মোদীর বিদায় নিশ্চিত। মনেপ্রাণে আপাতত রাজীবও হয়তো সেটাই চাইবেন। কারণ সত্যিই যদি বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, সেক্ষেত্রে কেন্দ্রে সরকার বদলের পরে রাজীবকে নিয়ে সিবিআই-এর অবস্থান কতটা কড়া হবে, তা নিয়ে সংশয় থাকছেই। আর সত্যিই যদি মমতার দাবি মেনে কেন্দ্রের সরকার গঠনে তৃণমূল নির্ণায়ক ভূমিকা নেয়, তাহলে তো কথাই নেই। আগামী সাতদিনের মধ্যে তেইশে মে সেই উত্তরও জেনে যাবে রাজীব। আর যদি সত্যিই নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় ফেরেন, তাহলে আরও চাপে পড়ে যেতে পারেন এই আইপিএস অফিসার। কারণ তখন পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখলের জন্য মরিয়া কেন্দ্রীয় সরকার সারদা কাণ্ড নিয়ে আরও উঠেপড়ে লাগবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেক্ষেত্রে তাদের অস্ত্র হতে পারে সিবিআই-ই। ঠিক যেভাবে লোকসভা নির্বাচনের আগে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সারদা কাণ্ড নিয়ে গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

আপাতত রাজীব কুমারকে হয়তো ফের একবার সুপ্রিম কোর্টেই আগাম জামিনের আবেদন করতে হবে। কারণ আইনজীবীদের কর্মবিরতির জন্য আপাতত রাজ্যের সব আদালতেই কাজকর্ম প্রায় বন্ধ। আপাতত আগামী সাতদিনের মধ্যেই কেন্দ্রে কারা সরকার গঠন করবে সেটা যেমন ঠিক হয়ে যাবে, তেমনই ঠিক হয়ে যেতে পারে রাজীব কুমারের ভাগ্যও।