বেশ কিছুদিন ধরেই অভিযোগ আসছিল। আর সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গিয়েই চোখ কপালে উঠল মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ আধিকারিকদের। ভগবানগোলার একটি গোডাউনে হানা দিয়ে বিপুল সংখ্যক মেয়াদ উত্তীর্ন নরম পানীয়ের বোতল এবং ফ্রুট জুসের প্যাকেট উদ্ধার করা হল। সবমিলিয়ে প্রায় দশ হাজার মেয়াদ উত্তীর্ন নরম পানীয়ের বোতল এবং প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর। 

বেশ কিছুদিন ধরেই মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মেয়াদ পেরনো ঠান্ডা পানীয়ের বোতল এবং প্য়াকেট বিক্রির অভিযোগ আসছিল জেলা খাদ্য সুরক্ষা দফতর এবং জেলা প্রশাসনের কাছে। ক্রেতারা অনেকেই অভিযোগ করছিলেন, শিশুদেরকেও এই মেয়াদ উত্তীর্ন পানীয় বিক্রি করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সম্প্রতি ভগবানগোলার বেশ কয়েকটি ঠান্ডা পানীয় বিক্রির দোকানে হানা দেয় ক্রেতা সুরক্ষা দফতর, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশের একটি যৌথ দল। সেই সূত্রেই ভগবানগোলার একটি বড় গোডাউনের খোঁজ মেলে। ওই গোডাউনে হানা দিয়ে কার্যত চোখ কপালে ওঠে সরকারি কর্তাদের। দেখা যায়, গোডাউনের ভিতরে হাজার হাজার মেয়াদ উত্তীর্ন ঠান্ডা পানীয় এবং ফ্রুট জুসের বোতল ও প্যাকেট মজুত করে রাখা হয়েছে। বিক্রির জন্যই সেগুলি মজুত করা হয়েছিল বলে স্বীকার করে নেন গৌডাউনের কর্মীরা। সবমিলিয়ে প্রায় দশ হাজার এই ধরনের বোতল ও প্যাকেট বাজেয়াপ্ত করা হয়। 

ভগবানগোলার বিডিও পুলককান্তি মজুমদার বলেন, 'অনেক দিন ধরেই আমরা মেয়াদ উত্তীর্ণ ঠান্ডা পানীয় বিক্রির অভিযোগ পাচ্ছিলাম। কিন্তু তা যে এত বড় আকার নিয়েছে, সেটা আমরা ভাবতে পারিনি।'

স্থানীয় বাসিন্দাদের অবশ্য অভিযোগ, কয়েকজন প্রশাসনিক কর্তার মদতেই দিনের পর দিন ধরে মেয়াদ পেরনো নরম পানীয় সরবরাহের কারবার চালাচ্ছিলেন গোডাউনের মালকি দুই ভাই। অন্যতম মালিক রকম দেবনাথ অবশ্য গোটা ঘটনার দায় গোডাউনের কর্মীদের উপরেই চাপিয়েছেন। তাঁর দাবি, নিরক্ষর কর্মীরা বোতল বা প্যাকেটের গায়ে লেখা এক্সপায়েরি ডেট বুঝতে পারেননি। মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া সব মালই সংস্থা ফিরিয়ে নেবে বলে দাবি অভিযুক্তের। জেলা প্রশাসনের কর্তাদের অবশ্য দাবি, মালিক যাই বলুন না কেন গোডাউন এবং তার দুই কর্ণধারের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।