গত দেড় বছর ধরে করোনা পরিস্থিতির জেরে নাজেহাল দেশবাসী। চারিপাশে শুধুই খারাপ খবর। অনেকের কাছের মানুষকে কেড়ে নিয়েছে করোনা। প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ। আর এই পরিস্থিতির মধ্যেও পরিষেবা দিয়ে চলেছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। করোনার হাত থেকে তাঁরাও রেহাই পাননি। ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন বহু চিকিৎসক। তাও থেমে যাননি। প্রতিনিয়ত রোগীদের সুস্থ করে তুলতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। তবে শুধু ওষুধ বা পরিষেবা দিয়েই নয়, রোগীদের মন ভালো রাখার দায়িত্বও তাঁরা নিয়েছেন। আর তাই মাঝে মধ্যেই নাচ ও গানের মধ্যে দিয়ে রোগীদের মন চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করছেন তাঁরা। সম্প্রতি এমনই এক উদ্যোগ নিয়েছেন আসানসোল জেলা হাসপাতালের নার্স ইন্দ্রাণী দত্ত। 

পিপিই-তে ঢাকা রয়েছে শরীর। এই তীব্র গরমের মধ্যে ওই পোশাক শরীরকে যতই কষ্ট দিক না কেন, রোগীদের মন ভালো রাখতে প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে চলেছেন ইন্দ্রাণী। আর সেই কারণেই ওই অবস্থাতেও সিলেটি লোকগীতি 'নয়া দামান'-এর তালে কোমর দোলালেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর এই নাচ। করোনা রোগীদের মনোবল বাড়াতে এই উদ্যোগ নেন তিনি। তাঁর এই ভাবনার তারিফ করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

তবে নাচ নাকি কখনও শেখেননি ইন্দ্রাণী। যদিও তাঁর নাচের ধরন দেখলে তা বোঝার উপায় নেই। আসলে হাসপাতালে সারাক্ষণ থাকার ফলে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন রোগীরা। এই সময় নিজের পরিজনদেরও দেখতে পান না তাঁরা। অনেক ক্ষেত্রে ভয়ের থেকে রোগীদের মনে বাঁচার ইচ্ছেটাই চলে যায়। তাই তাঁদের মনোবল বাড়িয়ে ইতিবাচক ভাবনা ঠেলে দিতেই এই উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইন্দ্রাণী।

এই উদ্যোগের জন্য ইন্দ্রাণীকে কুর্নিশ জানিয়েছেন আসানসোল জেলা হাসপাতালের সুপারিন্টেডেন্ট নার্স সুরভি মুখোপাধ্যায়। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমাদের একজন নার্স এত সুন্দর নাচতে পারেন, তা জানা ছিল না। কোভিড রোগীরা যে মানসিক ভাবেও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন, তা অনেকেই এর আগে তেমন করে ভাবেননি। করোনা রোগীরা যদি এই নাচে আনন্দ পান, তাতে ক্ষতি কী?"

তবে এটাই প্রথম নয়। এর আগেই দেশের বিভিন্ন জায়গাতে করোনা রোগীদের আনন্দ দিতে নাচতে দেখা গিয়েছিল চিকিৎসক ও নার্সদের। পিপিই পরে তাঁদের নাচ ভাইরালও হয়েছে। কখনও কোভিড ওয়ার্ড আবার কখনও করিডোরের মধ্যেই নেচেছিলেন তাঁরা। আর তাঁদের নাচতে দেখে খুশিতে ফেলে পড়েছিলেন দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীরা। আর এবার নাচের মাধ্যমে রোগীদের আনন্দ দিয়ে সেই তালিকায় ঢুকে পড়লেন ইন্দ্রাণীও।