টাকা উদ্ধার কাণ্ডে আরও বিপাকে ঘাটালের বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষ. তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ. একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে রিপোর্টও  পাঠিয়েছে জেলা পুলিশ. তবে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ভারতীর পাশে না দাঁড়ালেও বিজেপি প্রার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছেন মুকুল রায়. 

জেলায় নির্বাচনের আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায় নিয়ম মেনেই বৃহস্পতিবার রাতে বিভিন্ন গাড়ি তল্লাশি করছিল নির্বাচন কমিশনের বিশেষ দল। সেই সময়ে পুলিশি তল্লাশি এড়িয়ে ভারতীর 
গাড়ি বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। ধাওয়া করে সেই গাড়ি ধরে পুলিশ। তল্লাশিতে গাড়ির ভিতর থেকে এক লক্ষ তেরো হাজার টাকারও বেশি উদ্ধার হয় বলে অভিযোগ। নির্বাচনের সময় এক সঙ্গে পঞ্চাশ হাজার টাকা সঙ্গে রাখা যায় না। এর পরেই টাকা বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। যদিও পরে নিয়ম মেনে মামলা দায়ের করে ভারতীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। 

বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে শুক্রবার পিংলা থানায় স্বতোঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে জেলা পুলিশ. মামলায় ভারতীর বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, পুলিশকে হুমকি, নিয়ম বহির্ভূতভাবে টাকা নিয়ে যাওয়ার মতো একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে. এর মধ্যে সরকারি আধিকারিকদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ভারতীর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৩ ধারায় মামলা করেছে পুলিশ. এই ধারাটি জামিন অযোগ্য. পুলিশের অভিযোগ, টাকা বাজেয়াপ্ত করার সময় পুলিশ এবং সরকারি কর্মীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা ছাড়াও প্রথমে ঘটনার ভিডিও রেকর্ডিং মুছে  দেন ভারতী এবং তাঁর সঙ্গীরা. 

ভারতীর অবশ্য দাবি, তিনি ব্যাঙ্কের থেকে ওই টাকা তুলেছিলেন, সেই কাগজও তিনি দেখিয়েছেন।  তাঁর আরও যুক্তি, গাড়িতে চারজন ছিলেন। সেই অনুযায়ী মাথাপিছু পঞ্চাশ হাজার টাকা করে রাখা যায় বলে দাবি করেছেন ভারতী এবং তাঁর সতীর্থরা। কিন্তু পুলিশ সেই যুক্তি মানতে চায়নি বলে অভিযোগ ভারতীর।  শুধু তাই নয়, গাড়ির আরোহী বাকিদের সিজার লিস্টে সই করতে না দিয়ে শুধু ভারতী সই করার জন্য পুলিশ চাপ দেয় বলেও অভিযোগ বিজেপি প্রার্থীর।  সেই কারণেই তিনি সিজার লিস্টে সই করেননি বলে জানিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। 

এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনকেও রিপোর্ট পাঠিয়েছে জেলা পুলিশ. সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখার জন্য রাজ্য নির্বাচন কমিশন দিল্লির সদর দফতরে পাঠিয়েছে. সেখান থেকেই প্রয়োজনে ভারতীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে.

টাকা উদ্ধারের ঘটনায় ভারতীকে সমর্থন করেননি দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ. তিনি বলেন, ভুল করে থাকলে পুলিশ তদন্ত করবে. কোনওভাবে দলীয় প্রার্থী নিয়ম বহির্ভূতভাবে টাকা নিয়ে ফেলেছিলেন বলে স্বীকার করে নেন দিলীপ. যদিও এই ঘটনায় ভারতীকে ফাঁসানো হচ্ছে বলে এ দিন সাংবাদিক বৈঠক করে দাবি ককরেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়. 

অশোকনগরের সভা থেকে এ দিনই টাকা উদ্ধারের ঘটনায় নাম না করে ভারতীকে নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়. এই ঘটনায় বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন ঘাটালের তৃণমূল প্রার্থী দেবও. ভারতীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, "প্রথমে ধমকে, চমকে লোক ঢোকানোর হুমকি দিয়ে কাজ না হওয়ায় এখন উনি  টাকা ছড়িয়ে ভোট পাওয়ার চেষ্টা করছেন. কিন্তু মানুষ ভোট দেয় ভালবেসে, টাকা দিয়ে ভোট কেনা যায় না."