সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আরও বিপাকে পড়লেন কলকাতার প্রাক্তন নগরপাল রাজীব কুমার। তাঁর আবেদন খারিজ করে দিয়ে রক্ষাকবচের মেয়াদ আর বাড়াতে রাজি হল না সুপ্রিম কোর্ট। ফলে আজকের মধ্যেই যেভাবে হোক হাইকোর্ট বা উপযুক্ত কোনও নিম্ন আদালতে আবেদন করতে হবে রাজীবকে। তা না হলে তাঁকে গ্রেফতার করার ক্ষেত্রেও সিবিআই-এর কোনও বাধা থাকবে না।

গত শুক্রবার সারদা মামলায় সিবিআই-এর আবেদনে সাড়া দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, রাজীবকে প্রয়োজনে হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে পারবেন সিবিআই গোয়েন্দারা। তার জন্য গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাজীবকে দেওয়া তাদের রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নেয় শীর্ষ আদালত। কিন্তু একই সঙ্গে শীর্ষ আদালতের দুই বিচারপতি জানান, সাতদিনের মধ্যে উপযুক্ত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করতে পারবেন রাজীব। এই সাতদিনের মধ্যে তাঁকে গ্রেফতার করতে পারবে না সিবিআই। 

কিন্তু রাজ্যের সব আদালতে আইনজীবীদের কর্মবিরতি চলায় রাজীবের পক্ষে আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করা সম্ভব হয়নি। তাই ফের সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে আগাম জামিনের আবেদন করার সময়সীমা আরও সাতদিন বাড়ানোর অনুরোধ করেন রাজীব কুমারের আইনজীবীরা। এর জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠনের আবেদন করেছিলেন রাজীব কুমার। কিন্তু সেই আবেদন নাকচ করে দেয় শীর্ষ আদালত। 

এর পরে শীর্ষ আদালতেই আগাম জামিনের আবেদন করেন রাজীব। সেই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, গত শুক্রবারের নির্দেশ মেনে নিম্ন আদালতেই আবেদন করতে হবে রাজীবকে। আগাম জামিনের আবেদন তাঁরা শুনবেন না বলে জানিয়ে দেন শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা। রাজ্যে আইনজীবীদের কর্মবিরতি চলছে বলে যুক্তি দেন রাজীবের আইনজীবী। পাল্টা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা বলেন, আইনজীবীদের কর্মবিরতি চললেও রাজ্যের সব আদালত খোলা রয়েছে, বিচারপতিরাও আসছেন। ফলে হয় হাইকোর্ট নয় সারদা মামলার সঙ্গে যুক্ত কোনও নিম্ন আদালতে গিয়ে নিজে আবেদন করুন রাজীব। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা বলেন, রাজীব অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসার। অনেক তরুণ আইনজীবীর থেকেই আইনের ভাল জ্ঞান রয়েছে তাঁর। ফলে, নিজের আবেদনের পক্ষে তিনি আদালতে নিজেই সওয়াল করতে পারবেন। এছাড়াও সু্প্রিম কোর্ট তাঁকে সাতদিনের যে রক্ষাকবচ দিয়েছিল, সেই রায়ের সংশোধন করে মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনও করেছিলেন রাজীব। সেই আবেদনও এ দিন শুনতে চাননি বিচারপতিরা।

সুপ্রিম কোর্ট হতাশ করায় এবার মারাত্মক চাপে পড়লেন রাজীব কুমার। কারণ আজকের পরেই কলকাতা হাইকোর্টে গ্রীষ্মের ছুটি পড়ে যাচ্ছে। ফলে যে কোনও উপায়ে তাঁকে আজকে কলকাতা হাইকোর্ট বা অন্য কোনও নিম্ন আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করতেই হবে। তা না হলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে তাঁর বিরুদ্ধে শনিবার থেকেই আইনানুগ ব্যবস্থা নিতেপারে সিবিআই। সেক্ষেত্রে তাঁকে গ্রেফতার করে নিজেদের হেফাজতে নিতেও কোনও বাধা থাকবে না কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। 

রাজীবকে স্বস্তি দিয়ে অবশ্য এ দিন দুপুরেই কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেন পশ্চিমবঙ্গের আইনজীবীরা।  আগামী ২৬ মে থেকে আইনজীবীদের কাজে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছে রাজ্য বার কাউন্সিল। সেক্ষেত্রে রাজীব কুমারের কতটা সুবিধে হবে, সেই সংশয় থাকছেই।