স্কুলের সরস্বতী পুজোয় পুরোহিতের ভূমিকায় ছাত্রী। তাও আবার পিছিয়ে পড়া আদিবাসী সম্প্রদায়ের। নিজে ব্রাহ্মণ হয়েও অব্রাহ্মণ ছাত্রীকে দিয়ে স্কুলের সরস্বতী পুজো করিযে জাতিভেদ ও বর্ণবিভাজনের বিরুদ্ধে বার্তা দিলেন স্কুলে প্রধান শিক্ষক। সব মিলিয়ে অন্যরকম পুজোর সাক্ষী থাকল হবিবপুরের দাল্লা চন্দ্রমোহন বিদ্যামন্দির। 

 মালদহের বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেষা গ্রাম দাল্লা। স্কুলের পড়ুয়াদের বড় অংশ আদিবাসী সম্প্রদায়ের। এলাকায় মেয়েদের শিক্ষার হার তুলনামূলক ভাবে অনেকটাই কম। এমন প্রান্তিক স্কুলে সরস্বতী পুজোয় পুরোহিতের ভূমিকায় আধিবাসী ছাত্রী। একাদশ শ্রেণির পড়ুয়া রোহিলা হেমব্রমের হাতেই পুজো পেলেন সরস্বতী। তাঁর মন্ত্র উচ্চারণে ভক্তি ভরে পুস্পাঞ্জলি দিলেন স্কুলের কয়েকশো পড়ুয়া। 

বয়সে এখনও নাবালিকা, তবু মন্ত্র উচ্চারণে আগাগোড়া যথেষ্ট সাবলীল আদিবাসী রোহিলা। স্কুলের শিক্ষকদের পুরোহিত হবার প্রস্তাবে প্রথমে কিছুটা অবাক হয়েছিল রোহিলা। পরে এই প্রস্তাবকে চ্যালেঞ্জ আকারে নিয়ে শুরু হয়ে যায় মানসিক প্রস্তুতি। শেষ পর্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পুজো শেষ করে খুশি রোহিলা। 

 এনআরসি , সিএএ নিয়ে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অভিযোগ উঠেছে। পাল্টা মোদী সরকারের  বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরগরম দেশের রাজনীতি। তখন আদিবাসী ছাত্রীকে দিয়ে পুজো করিয়ে সন্তুষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ। বর্ণভেদের বিরুদ্ধে বার্তা দিতেই এমন পরিকল্পনা বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক জয়দেব লাহিড়ী। নিজে পাশে বসে বার কয়েক ছাত্রীকে পুজোপাঠে সহযোগিতাও করেন এই ব্রাহ্মণ প্রধান শিক্ষক।