২০১৬ সালে জারি হয়েছিল বিজ্ঞপ্তি। তার ভিত্তিতেই পরীক্ষা হয়  ২০১৭ সালের জুন মাসে। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল পাঁচ লক্ষেরও বেশি। তবে এদের মধ্যে কেউই চাকরিটা শেষ পর্যন্ত পাননি। কেননা আইনি জটে আটকে গিয়েছিল শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া। তবে এবার আশার আলো দেখাচ্ছে স্বয়ং শিক্ষা দপ্তর ।

সূত্রের খবর সব ঠিকঠাক থাকলে ভোটের ফল বেরোনোর আগেই উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরিপ্রার্থীদের তৃতীয় দফার ভেরিফিকেশনের বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে।  

এসএসসি, প্রাইমারি নিয়োগ নিয়ে নিয়ে রাজ্য সরকার যখন বিরোধীদের হাতে প্রবলভাবে কোণঠাসা, তখনই রাজ্য সরকারের বদান্যতায় হাসি ফুটতে পারে হাজার চাকরিপ্রার্থীর মুখে।


এসএসসি নিয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছে রাজ্য সরকার। ২০১৬ সালেই নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। তখনই হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল সফল প্রার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর সহ মেধা তালিকা বের করতে হবে। প্রার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর ছাড়াই শুধুমাত্র নামের তালিকা প্রকাশ করার বিষয়টিকে ভর্ৎসনা করে হাইকোর্ট। মামলার ভিত্তিতে মোট ৩১ জন পরীক্ষার্থীকে কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী প্রাপ্ত নম্বর জানাতে হবে। ১২ হাজার ৬০০ শূন্য পদের শিক্ষক নিয়োগ তখনই আটকে গিয়েছিল। ২৭ শে নভেম্বর পরীক্ষা দিয়ে বসে ছিলেন কার্যত কয়েক লক্ষ পরীক্ষার্থী।

এরই মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত ১৬ ই জানুয়ারি ঘোষণা করেন কলেজ পাশ করলেই গ্রামীণ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া যাবে।মমতার এই ঘোষণাতেও বিরাট বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। তারপরের দিনই সাংবাদিক বৈঠক করে এ বিষয়টি সম্পর্কে জবাবদিহি করেছিলেন কমিশনের চেয়ারম্যান সৌমিত্র সরকার।

এরপর আদালত অবমাননার দায়ে পড়তে হয়েছে এসএসসি চেয়ারম্যান এবং সচিবকে। গত ২৮ জানুয়ারি বিচারপতি রীতিমতো ভর্ৎসনা করে তাঁদের বলেন, "মেধা তালিকা প্রকাশ করেছেন তো মামলাকারীদের জানাননি কেন? ২৪ ঘন্টার মধ্যে মেধা তালিকা দাখিল না করলে আদালত অবমাননার দায়ে আপনাদের জেলে পাঠাবো।

 এই অবস্থায়  এই রাজ্যে যখন প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সমস্ত স্কুল গুলি শিক্ষকের অভাবে ধুঁকছে, মমতার সরকারের বিরুদ্ধে যখন আসতে আসতে বাড়ছে রোষের আগুন, তখন সরকারি উদ্যোগের যদি ফের উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে  নিয়োগ শুরু হয় তবে লাভবান হবেন হাজার শিক্ষার্থী। ডিভিডেন্ট পাবেন মমতাও।