'অসমে করতে পেরেছিল, কারণ বিজেপি সরকার আছে। আমি জীবন দিতে তৈরি আছি, কিন্তু এখানে ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেব না। মরে গেলেও দেব না।'  নৈহাটি উৎসবে উদ্বোধনে মঞ্চেও নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে সোচ্চার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় মোদী সরকারকে তাঁর হুঁশিয়ারি, 'আমাকে আইন দেখিয়ে লাভ নেই। মানুষের আর্শীবাদে সাতবার পার্লামেন্টের সদস্য হয়েছি। দিল্লিতে তিন-চারটি মন্ত্রক সামলে এসেছি।'

নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলনে নেমেছেন তিনি। একের এক মিছিল করছেন কলকাতায়। বৃহস্পতিবার রাজাবাজার থেকে মল্লিকবাজার পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মিছিল পা মেলান বহু মানুষ। শুক্রবার উত্তর  পরগণার নৈহাটিতে 'নৈহাটি উৎসব'-এর উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। অরাজনৈতিক মঞ্চেও তাঁর বক্তব্যে উঠে এল নাগরিকত্ব আইনে বিরোধিতার সুর। এদিন ভাষণের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, তিনি যখন প্রথমবার যাদবপুর কেন্দ্র থেকে প্রথমবার সাংসদ নির্বাচিত হন, তখন সেখানকার উদ্বাস্তু বাসিন্দাদের আবেদনকে মান্যতা দিয়ে তাঁদের হাতে জমির তুলে দিয়েছিলেন নিঃশর্তে। বাংলার সমস্ত উদ্বাস্তু কলোনিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। কেন্দ্রের আগেই উদ্বাস্তুদের 'নাগরিক'-এর স্বীকৃতি দিয়েছে রাজ্য সরকারই।

আরও পড়ুন: দলের সঙ্গেই মতবিরোধ, পদত্যাগ করলেন দু' বার জেতা তৃণমূল কাউন্সিলর

নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি বিতর্কের মাঝেই কিন্তু এ রাজ্যে ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্ট্রার বা এনপিআর-র কাজও বন্ধ করে দিয়েছে  সরকার। নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে যে, বাংলায় সরকার অনুমোদন ছাড়া এনপিআর-সংক্রান্ত কোনও কাজই করা যাবে না। তবে প্রথমে যে তিনি রাজ্যে এনপিআর-এর কাজে সম্মত হয়েছিলেন, তা স্বীকার করে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, 'যখন এনপিআর করবে বলে জানিয়েছিল, তখন ভেবেছিলাম সাধারণ জনগণনা হবে। কিন্তু এখন তো শুনছি, আইনটাকেই পালটে দিয়েছে।  তাহলে আমি কেন এনপিআর করব?'  উল্লেখ্য, অসমের মতোই দেশ জুড়ে এনআরসি করার পরিকল্পনা করেছে মোদী সরকার। তারই প্রস্তুতি হিসেবে ২০২০ সালের মধ্যে এনপিআর তৈরির করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই এনপিআর-র ভিত্তিকেই এনআরসি বা জাতীয় নাগরিকপঞ্জী তৈরি করা হবে বলে জানা গিয়েছে।