রথযাত্রার সঙ্গে বাঙালি সংস্কৃতির মেলবন্ধন, পরিপূর্ণতা দিয়েছে বাংলা সাহিত্যকেও

Published : Jun 19, 2020, 04:51 PM IST
রথযাত্রার সঙ্গে বাঙালি সংস্কৃতির মেলবন্ধন,  পরিপূর্ণতা দিয়েছে বাংলা সাহিত্যকেও

সংক্ষিপ্ত

 রথযাত্রার সঙ্গে বাঙালি সংস্কৃতি জুড়ে আছে  শ্রীচৈতন্যের সময়েই বাঙালির সঙ্গে রথের যোগাযোগ আরও গাঢ় হয়েছে  যা পরিপূর্ণতা দিয়েছে বাংলার সংস্কৃতি ও সাহিত্যকেও  মূর্তি প্রসঙ্গে শ্রীমদভাগবতের ব্যাখ্যাটি অন্যরকম   

 রথযাত্রার সঙ্গে বাঙালি সংস্কৃতি জুড়ে আছে। শ্রীচৈতন্যের সময় থেকেই বাঙালির সঙ্গে রথের যোগাযোগ আরও গাঢ় হয়েছে। যা পরিপূর্ণতা দিয়েছে বাংলার সংস্কৃতি এবং বাংলা সাহিত্যকেও। অবশ্য়, মূর্তি প্রসঙ্গে শ্রীমদভাগবতের ব্যাখ্যাটি অন্যরকম।

আরও পড়ুন, কর্কট রাশির ব্যবসায় উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, দেখে নিন আপনার রাশিফল


জগন্নাথের যে মূর্তির সঙ্গে সবাই পরিচিত তা নিয়ে একাধিক মত রয়েছে। এক কাহিনিতে বলা হয়েছে, শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যুর সময় বলরাম শোকে দুঃখে পাগল হয়ে তাঁর অর্ধদগ্ধ দেহ চিতা থেকে তুলে নিয়ে এসে তা সমুদ্রে নিক্ষেপ করেন। সেই সময় পুরীর রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন সমুদ্রে ভাসমান এক মহাদারু  অর্থাৎ যা আসলে শ্রীকৃষ্ণেরই অর্ধদগ্ধ দেহ  দেখতে পান। স্বপ্নে নির্দেশ পান, এই মহাদারু দিয়ে বিগ্রহ তৈরি করে মন্দিরে তা প্রতিষ্ঠা করার। তখন স্বয়ং বিশ্বকর্মা বৃদ্ধ, অশক্ত শিল্পী অনন্ত বাসুদেব মহারানার রূপে এসে রাজারকে শর্ত দিলেন, তিনি এই মূর্তি বানাবেন। কিন্তু মূর্তি তৈরির কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউই মন্দিরে দরজা খুলতে পারবে না। রাজা তাতে রাজি হন। কিন্তু রানি গুণ্ডিচার  কৌতূহলবশত রাজার অদূরদর্শিতার কারণে ১৫ দিনে পরেই মন্দির দরজা খোলা হয়। রাজা দেখলেন ভিতরে কেউ নেই। শুধু রয়েছে হাত, পা বিহীন এক অসম্পূর্ণ মূর্তি। রাজা তখন নিজের কাজের জন্য অনুতপ্ত। এদিকে স্বপ্নে প্রভু জগন্নাথ তাঁকে দর্শন দিয়ে ওই রূপেই তাঁকে প্রতিষ্ঠা করতে বলেন। তখন থেকেই তিনি এই রূপে ভক্তের কাছে পূজা পেয়ে আসছেন। 

 আরও পড়ুন, হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম এক উৎসব, পুরীর রথযাত্রার মিলেমিশে রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস


অপরদিকে, মূর্তি প্রসঙ্গে শ্রীমদভাগবতের ব্যাখ্যাটি অন্যরকম। শ্রীকৃষ্ণ মথুরা ও বৃন্দাবনলীলা সাঙ্গ করে দ্বারকায় রাজা হয়ে বসেছেন। ১৬ হাজার ১৮ জন মহিষী তাঁর সেবা করলেও তিনি রাধার কথা ভুলতে পারছেন না। এক দিন ঘুমন্ত অবস্থায় তার চোখে জল এসে যায়। এরপর মহিষীরা দেবী রোহিনীর শরণাপন্ন হন। তাঁদের অনেক অনুনয় বিনয়ের পরে রোহিনী রাজি হলেন বৃন্দাবন লীলার কথা শোনাতে। একটি বন্ধ ঘরে সুভদ্রাকে বাইরে পাহারায় রেখে মা রোহিনী শুরু করলেন তার বর্ণনা। কৃষ্ণ এবং বলরামও তীব্র এক আকর্ষণে রাজকার্য ছেড়ে চলে আসেন অন্তঃপুরে। এরপর পাহারারত সুভদ্রার পাশে দাঁড়িয়ে ব্রজলীলার অসাধারণ বর্ণনা শুনলেন। ভাবাবেশে তাঁদের শরীর বিগলিত হয়ে গেল। সুদর্শন চক্রের আকৃতি লম্বা হয়ে গেল। এমন সময় দেবর্ষি নারদ কৃষ্ণ দর্শনে এসে সেই রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলেন। পরে স্বাভাবিক রূপ প্রাপ্ত হলে নারদের কাছে শ্রীকৃষ্ণ নীলগিরিতে এই রূপে দারুমূর্তি হিসেবে প্রকাশিত হওয়ার কথা বললেন। সেই রূপই আজকের রথের দেবতা। তাই রথের আরাধ্য দেবতার রূপ যেমনই হোক না কেন, রথযাত্রা হল বাঙালি সমাজের কাছে প্রাণের আনন্দযাত্রা। 

PREV
Ajker Rashifal: Check today's rashifal in Bangali for your zodiac signs. Know your daily Horoscope (দৈনিক রাশিফল) in Bangla , Weekly rashifal (সাপ্তাহিক রাশিফল) yearly rashifal at Asianet news Bangla.
click me!

Recommended Stories

Daily Astrology: এই রাশির জাতকদের জীবনে আসছে চরম সর্বনাশ! খারাপ সময়ের সূচনা হতে চলেছে শিঘ্রই
Love Horoscope: সঙ্গীর সঙ্গে রোমান্টিক সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন! দেখে নিন আপনার আজকের প্রেমের রাশিফল