
পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের বাইকের পেছনে বসিয়ে যাতায়াত করাটা সাধারণ রাইডিংয়ের চেয়ে একটু আলাদা। তার জন্য বাড়তি সতর্কতা দরকার। চালকের জন্য যে সিট আরামদায়ক, পেছনের যাত্রীর জন্য তা না-ও হতে পারে। বিশেষ করে ভাঙাচোরা রাস্তা, স্পিড ব্রেকার আর লম্বা যাত্রায় পেছনের যাত্রীর পিঠে ব্যথা হতে পারে। সিট বেশি উঁচু বা বাইক ভারী হলে বয়স্কদের ওঠানামা করাটাও বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
পরিবারের মানুষ, বিশেষ করে পেছনের যাত্রীর (Pillion) আরামই যদি আসল কথা হয়, তবে লম্বা ও নরম সিট, সহজে ওঠানামার মতো উচ্চতা, হাতের কাছের গ্র্যাব রেইল (Grab Rail) এবং ভালো সাসপেনশন আছে এমন বাইক বেছে নেওয়া জরুরি। ভালো সাসপেনশন রাস্তার ঝাঁকুনি পিঠ পর্যন্ত পৌঁছাতে দেয় না। চলুন, বাবা-মাকে নিয়ে নিরাপদে ও আরামে যাতায়াতের জন্য সেরা ৫টি বাইক সম্পর্কে জেনে নিই।
যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন
নতুন বাইক কেনার আগে বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে টেস্ট রাইড করা সবচেয়ে ভালো। সিটের উচ্চতা এমন হওয়া উচিত যাতে বয়স্করা সহজে উঠে বসতে পারেন এবং পা মাটিতে রাখতে পারেন। সিট যথেষ্ট চওড়া ও নরম কি না, তা দেখে নিন। পেছনের যাত্রীর শক্ত করে ধরার মতো গ্র্যাব রেইল আছে কি না, সেটাও খেয়াল রাখবেন। বাড়তি আরামের জন্য ব্যাকরেস্ট লাগানো ভালো। ভাঙাচোরা রাস্তায় চালিয়ে দেখুন পেছনের যাত্রী ঝাঁকুনি অনুভব করছেন কি না। পেছনে মানুষ বসিয়ে ট্রাফিকের মধ্যে আপনি বাইকটি সহজে সামলাতে পারছেন কি না, সেটাও যাচাই করে নিন। আর হ্যাঁ, দূরত্ব যতই কম হোক না কেন, পেছনের যাত্রীর জন্য সঠিক মাপের হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক।
দাম: প্রায় ১.১৫ লক্ষ টাকা (এক্স-শোরুম)
শহরের রাস্তায় প্রতিদিন যাতায়াতের জন্য হন্ডা ইউনিকর্ন দারুণ একটি বাইক। এর লম্বা ও চওড়া সিঙ্গেল-পিস সিটে (Single-piece seat) বেশ ভালো কুশনিং রয়েছে। ফলে, চালক ও পেছনের যাত্রী দুজনেই বেশ আরাম পান। হাতের নাগালে থাকা গ্র্যাব রেইল এবং ফুটপেগের (Footpeg) পজিশন পেছনের যাত্রীকে আরামে বসতে সাহায্য করে। এর সাসপেনশন রাস্তার খানাখন্দ ও স্পিড ব্রেকারের ঝাঁকুনি খুব ভালোভাবে সামলে নেয়। তাই পেছনের যাত্রী কোনো ক্লান্তি ছাড়াই মসৃণ যাত্রার অভিজ্ঞতা পান।
দাম: শুরু ১.৩০ লক্ষ টাকা থেকে (এক্স-শোরুম)
সাধারণ কমিউটার বাইকের চেয়ে একটু আলাদা লুক ও পারফরম্যান্স চাইলে টিভিএস রোনিন বেছে নিতে পারেন। এর ইঞ্জিন খুব কম কাঁপে। কম স্পিডেও বাইকটি দারুণ টানে। এর আরামদায়ক বসার পজিশন প্রতিদিনের যাতায়াতকে সহজ করে তোলে। বাঁক নেওয়ার সময় বা ভাঙাচোরা রাস্তায় বাইকটি দারুণ ব্যালেন্স ধরে রাখে।
এর রিল্যাক্সড সিটিং পজিশন পেছনের যাত্রীকে বেশ আরাম দেয়। এছাড়া টিভিএস কোম্পানি আলাদা অ্যাক্সেসরি হিসেবে ব্যাকরেস্ট (Backrest) কেনার সুযোগ দেয়। বয়স্ক বাবা-মায়ের পিঠের আরামের জন্য এই ব্যাকরেস্ট দারুণ কাজে আসবে।
দাম: শুরু ১.৬৭ লক্ষ টাকা থেকে (এক্স-শোরুম)
রয়্যাল এনফিল্ড বুলেট ৩৫০ বাইকে একদম সোজা হয়ে বসার দারুণ আরামদায়ক রাইডিং পজিশন রয়েছে। সিটের উচ্চতা মাঝারি হওয়ায় বয়স্করা খুব সহজেই এতে ওঠানামা করতে পারেন। রাস্তায় চলার সময় বুলেট দারুণ স্থিতিশীলতা (Planting effect) দেয়। এটির সাসপেনশন ভাঙাচোরা রাস্তার ঝাঁকুনি শুষে নিয়ে পিছনের যাত্রীকে নিরাপদ অনুভূতি দেয়। তবে এর ওজনটা একটু মাথায় রাখতে হবে। জ্যামের মধ্যে পেছনে মানুষ বসিয়ে এই ভারী বাইক সামলানো চালকের জন্য একটু কঠিন হতে পারে। বাইকের ওজন সামলাতে পারলেই এটি আপনার জন্য সেরা পছন্দ হতে পারে।
দাম: শুরু ১.৯৩ লক্ষ টাকা থেকে (এক্স-শোরুম)
আপনার বাবা-মা যদি বাইকের আওয়াজ বা হঠাৎ ঝাঁকুনি পছন্দ না করেন, তবে হোন্ডা হাইনেস সিবি৩৫০ বাইকটি দেখতে পারেন। এর ইঞ্জিন খুবই মসৃণ, যা একদম কাঁপুনিহীন যাত্রার অভিজ্ঞতা দেয়। স্পিড ব্রেকার বা খানাখন্দে এর সাসপেনশন দারুণ কাজ করে। তাই লম্বা যাত্রায় কোনো ক্লান্তি আসে না। চওড়া সিট এবং শান্ত রাইডিং পছন্দ করা পরিবারের জন্য এই বাইকটি একদম পারফেক্ট।
দাম: প্রায় ২.১৫ লক্ষ টাকা (এক্স-শোরুম)
মডার্ন ক্লাসিক লুক পছন্দ করা রাইডারদের জন্য জাওয়া ৪২ এফজে দারুণ একটি মডেল। এর সোজা রাইডিং পজিশন লম্বা যাত্রাকে সহজ করে তোলে। তবে বয়স্ক বাবা-মাকে পেছনে বসাতে চাইলে দুটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। প্রথমত, বয়স্কদের পিঠের আরামের জন্য আলাদা একটি ব্যাকরেস্ট (Backrest) লাগিয়ে নেওয়া ভালো। দ্বিতীয়ত, বাইকটির পিছনের সাসপেনশন কিছুটা শক্ত (stiff) হতে পারে। তাই পেছনের যাত্রীর সুবিধা অনুযায়ী সাসপেনশনটি একটু নরম (softer preload) সেটিংয়ে বদলে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।