
১৫৫ সিসির লিকুইড-কুলড ইঞ্জিন হোক বা ৩৫০ সিসির এয়ার-কুলড ইঞ্জিন, ভারতে এখন ক্লাসিক ও রেট্রো বাইকের দারুণ চাহিদা। ইয়ামাহা, রয়্যাল এনফিল্ড, টিভিএস এবং কাওয়াসাকির মতো জনপ্রিয় কোম্পানিগুলো সাশ্রয়ী দামে দুর্দান্ত সব বাইক আনছে। এই বাইকগুলোতে পুরনো দিনের ডিজাইনের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির দারুণ মেলবন্ধন দেখা যায়। চলুন, ভারতে দেড় লাখ টাকার (এক্স-শোরুম) মধ্যে পাওয়া যায় এমন সেরা ৫টি এন্ট্রি-লেভেল রেট্রো বাইকের খুঁটিনাটি জেনে নিই।
আধুনিক ফিচারের সঙ্গে রেট্রো লুকের দারুণ মিশেল রয়েছে ইয়ামাহা এক্সএসআর ১৫৫ বাইকটিতে। এই তালিকায় এটিই একমাত্র বাইক, যেখানে ১৫৫ সিসির লিকুইড-কুলড সিঙ্গেল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। ইঞ্জিনটি ১৮.৪ পিএস পাওয়ার এবং ১৪.২ এনএম টর্ক তৈরি করে। সঙ্গে রয়েছে স্লিপার ক্লাচ-সহ ৬-স্পিড গিয়ারবক্স. কোম্পানির দাবি, বাইকটি প্রতি লিটারে ৪৫.৫ কিমি মাইলেজ দেয়। এতে ১০ লিটারের ফুয়েল ট্যাঙ্ক রয়েছে। বাইকটির সিট হাইট ৮১০ মিমি এবং ওজন মাত্র ১৩৭ কেজি। ফলে ভিড় রাস্তায় এটি চালানো বেশ সহজ। এর ইঞ্জিন ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ ইয়ামাহা আর১৫ ভি৪ এবং এমটি-১৫ ভি২ থেকে নেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি, এলইডি হেডলাইট এবং ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস-এর মতো আধুনিক ফিচার রয়েছে এতে।
রয়্যাল এনফিল্ড হান্টার ৩৫০ একটি নিখুঁত ক্লাসিক রোডস্টার বাইক। এটিতে ৩৪৯ সিসির সিঙ্গেল-সিলিন্ডার এয়ার-কুলড ইঞ্জিন এবং ৫-স্পিড গিয়ারবক্স রয়েছে। ক্লাসিক ৩৫০ মডেলের মতোই এটি ২০.৫ পিএস পাওয়ার এবং ২৭ এনএম টর্ক জেনারেট করে। এআরএআই (ARAI) অনুযায়ী বাইকটি লিটারে ৩৬ কিমি মাইলেজ দেয়। এতে ১৩ লিটারের ফুয়েল ট্যাঙ্ক দেওয়া হয়েছে। ভ্যারিয়েন্টের উপর ভিত্তি করে এর ওজন ১৭৭ থেকে ১৮১ কেজির মধ্যে থাকে এবং সিট হাইট ৭৯০ মিমি। সুরক্ষার জন্য এতে ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস এবং অ্যানালগ-ডিজিটাল মিটার কনসোল রয়েছে। রয়্যাল এনফিল্ডের লাইনআপে এটি অন্যতম সেরা এবং সাশ্রয়ী রেট্রো বাইক।
টিভিএস রোনিন মূলত নিও-রেট্রো ক্রুজার, স্ক্র্যাম্বলার এবং রোডস্টার স্টাইলের একটি সুন্দর মিশ্রণ। বাইকটিতে ২২৫.৯ সিসির সিঙ্গেল-সিলিন্ডার এয়ার ও অয়েল-কুলড ইঞ্জিন রয়েছে। ৫-স্পিড গিয়ারবক্সের সাহায্যে এটি ২০.৪ পিএস পাওয়ার এবং ১৯.৯ এনএম টর্ক তৈরি করে। কোম্পানির দাবি অনুযায়ী, এটি লিটারে ৪২.৯৫ কিমি মাইলেজ দেয়। এতে ১৪ লিটারের ফুয়েল ট্যাঙ্ক রয়েছে। বাইকটির সিট হাইট ৭৯৫ মিমি এবং ওজন ১৬০ কেজি। ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস, ব্লুটুথ-সহ সম্পূর্ণ ডিজিটাল কনসোল, রাইডিং মোড, টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন এবং ভয়েস অ্যাসিস্টের মতো দারুণ সব ফিচার রয়েছে এতে। রোজকার ব্যবহারের জন্য এটি একটি দুর্দান্ত বাইক।
স্ক্র্যাম্বলার স্টাইল এবং আরামদায়ক সিটিং পজিশন নিয়ে বাজারে এসেছে ইয়ামাহা এফজেড-এক্স। এর রেগুলার মডেলে ১৪৯ সিসির এয়ার-কুলড সিঙ্গেল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন রয়েছে, যা ১২.৪ পিএস পাওয়ার এবং ১৩.৩ এনএম টর্ক দেয়। বেশি মাইলেজের জন্য এতে একটি মাইল্ড-হাইব্রিড (SMG) ভ্যারিয়েন্টও পাওয়া যায়। হাইব্রিড মডেলটি লিটারে ৫৩ কিমি মাইলেজ দেয় বলে কোম্পানির দাবি। এতে ১০ লিটারের ফুয়েল ট্যাঙ্ক রয়েছে। বাইকটির ওজন ১৪১ কেজি এবং সিট হাইট ৮১০ মিমি। এলইডি হেডল্যাম্প, সিঙ্গেল-চ্যানেল এবিএস, ইউএসবি চার্জার এবং স্মার্টফোন কানেক্টিভিটি-সহ এলসিডি ক্লাস্টার এর অন্যতম আকর্ষণ। যারা রেট্রো লুকের পাশাপাশি ভালো মাইলেজ চান, তাদের জন্য এটি সেরা পছন্দ।
কাওয়াসাকি ডব্লিউ১৭৫ বাইকটি আপনাকে একেবারে ৯০-এর দশকের ভিনটেজ ফিল দেবে। এতে ১৭৭ সিসির এয়ার-কুলড সিঙ্গেল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন এবং ৫-স্পিড গিয়ারবক্স রয়েছে। ইঞ্জিনটি ১৩ পিএস পাওয়ার এবং ১৩.২ এনএম টর্ক জেনারেট করে। ১২ লিটারের ফুয়েল ট্যাঙ্কের সঙ্গে এটি লিটারে ৪০ থেকে ৪৫ কিমি মাইলেজ দেয়। এর সিট হাইট ৭৯০ মিমি। মাত্র ১৩৫ কেজি ওজনের এই বাইকটি আমাদের তালিকার সবচেয়ে হালকা বাইক। পুরনো দিনের ক্লাসিক ছোঁয়া ধরে রাখতে এতে সাধারণ ডাবল-ক্র্যাডল স্টিল ফ্রেম, টেলিস্কোপিক ফর্ক, ডুয়াল রিয়ার শক অ্যাবজর্বার, সিঙ্গেল-চ্যানেল এবিএস, অ্যানালগ-ডিজিটাল মিটার এবং হ্যালোজেন হেডলাইট ব্যবহার করা হয়েছে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।