
কমার্শিয়াল রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের বিকল্প হিসেবে খুব শীঘ্রই বাজারে আসতে চলেছে ইথানল চালিত স্টোভ। বাণিজ্যিক এলপিজি-র লাগাতার দাম বাড়ায় হোটেল মালিক এবং অন্যান্য ব্যবসায়ীরা যে সমস্যায় পড়েছেন, তাতে এই নতুন পদক্ষেপ বড় স্বস্তি দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। গ্রেইন ইথানল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে যে, ইথানল কুক স্টোভ তৈরির কাজ চলছে এবং এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
ইরান যুদ্ধের পর থেকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব সরাসরি পড়েছে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দামে। সম্প্রতি দিল্লিতে কমার্শিয়াল সিলিন্ডারের দাম ৪২ টাকা এবং কলকাতায় ৫৩.৫০ টাকা বেড়েছে। এর ফলে দিল্লিতে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম দাঁড়িয়েছে ৩১১৩.৫০ টাকা এবং কলকাতায় ৩২৫৫.৫০ টাকা।
বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের এই মূল্যবৃদ্ধির জেরে রেস্তোরাঁ চালানোর খরচ এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেছে। এর ফলে অনেক জায়গায় খাবারের দাম বাড়াতে বা পরিমাণ কমাতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকরা। এই অতিরিক্ত বোঝা সামলাতে না পেরে ছোটখাটো হোটেলগুলি বন্ধ হওয়ার মুখে। ফলে কাজ হারানোর আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। ন্যাশনাল রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া-ও এলপিজি সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হলে পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এলপিজি-র বদলে ইথানল ব্যবহার শুরু হলে অপরিশোধিত তেলের উপর নির্ভরতা প্রায় ১৫ শতাংশ কমানো সম্ভব হবে। এর ফলে তেল আমদানির খরচ অনেকটাই বাঁচবে। ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকট বা অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার মতো পরিস্থিতি সামলাতে ইথানল একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কমার্শিয়াল ইথানল স্টোভের পাশাপাশি ডিজেলে ইথানল মেশানোর প্রক্রিয়াও এগোচ্ছে। অপরিশোধিত তেল আমদানি কমানোর লক্ষ্যে ভারত শীঘ্রই ডিজেলে আইসোবিউটানল মেশানো বাধ্যতামূলক করতে পারে। এর জন্য সরকার একটি পাইলট প্ল্যান্টও স্থাপন করছে।