
Loan EMI Reduce Tips: মাসের শুরুতেই মাইনে ঢোকে, আর সঙ্গে সঙ্গে EMI কেটে নেয়... তারপর বাড়ি ভাড়া, কারেন্টের বিল, বাচ্চাদের স্কুলের ফি আর বাকি খরচের ধাক্কা সামলাতে গিয়েই মাস শেষ। আপনারও যদি হোম লোন, কার লোন বা পার্সোনাল লোনের EMI দিতে গিয়ে একই অবস্থা হয়, তাহলে এই খবরটা আপনার জন্য।
অনেকেই জানেন না যে, কিছু ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক নিজেই আপনার EMI-এর বোঝা কমাতে পারে। এর জন্য কোনও চেনা-পরিচিতির দরকার নেই, শুধু সঠিক সময়ে সঠিক রাস্তাটা জানতে হবে। আজ আমরা এমন কিছু সহজ উপায় বলছি, যা আপনার প্রতি মাসের EMI কমিয়ে বাজেটকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।
যদি আপনার মাইনে আগের মতো না থাকে, খরচ বেড়ে যায় বা একসঙ্গে অনেকগুলো লোন চলে, তাহলে আপনি ব্যাঙ্কের সঙ্গে লোন রিস্ট্রাকচারিং (Loan Restructuring) বা EMI রিভিশনের ব্যাপারে কথা বলতে পারেন। এর মানে হল, ব্যাঙ্ক আপনার লোনের মেয়াদ বাড়িয়ে দিতে পারে, যার ফলে প্রতি মাসের কিস্তির পরিমাণ কমে যায়। যেমন, আপনার EMI যদি মাসে ১৮,০০০ টাকা হয়, তাহলে মেয়াদ বাড়ালে সেটা অনেকটাই কমে আসতে পারে এবং প্রতি মাসে কয়েক হাজার টাকা বাঁচতে পারে।
আপনি যদি কিছু নির্দিষ্ট সমস্যার মধ্যে দিয়ে যান, তাহলে ব্যাঙ্ক আপনার কথা শুনতে পারে। যেমন - আপনার মাইনে কমে গেলে, চাকরি বদলালে, ব্যবসায় ক্ষতি হলে, একাধিক লোন চললে, বা হঠাৎ করে চিকিৎসা বা পারিবারিক খরচ বেড়ে গেলে। অনেক ব্যাঙ্ক এই ধরনের ক্ষেত্রে EMI কমানোর সুযোগ দেয়।
বেশিরভাগ মানুষ এখানেই ভুল করেন। তাঁরা EMI দিতে দেরি করেন, যার ফলে জরিমানা বাড়তে থাকে। এমনটা না করে সরাসরি ব্যাঙ্কে গিয়ে কথা বলুন। জানান যে আপনি EMI কমাতে চান, লোনের মেয়াদ বাড়াতে চান, সুদের হার কমানোর কোনও উপায় আছে কিনা বা ব্যালেন্স ট্রান্সফার (Balance Transfer) করতে চান। আপনার পুরনো পেমেন্টের রেকর্ড যদি ভালো থাকে, তাহলে ব্যাঙ্ক সাধারণত তাড়াতাড়ি সাহায্য করে।
যদি আপনার পুরনো লোন বেশি সুদে চলতে থাকে, তাহলে আপনি অন্য কোনও ব্যাঙ্কে কম সুদে সেটা ট্রান্সফার করে নিতে পারেন। অনেক ব্যাঙ্কই নতুন গ্রাহকদের জন্য কম সুদে লোন সরিয়ে আনার অফার দেয়। এর ফলে EMI কমতে পারে, সুদের বোঝা কমতে পারে এবং প্রতি মাসে আপনার হাতে কিছু টাকাও বাঁচতে পারে। তবে ট্রান্সফার করার আগে প্রসেসিং ফি এবং অন্যান্য চার্জগুলো ভালো করে জেনে নেবেন।
EMI কমার মানে এই নয় যে আপনার মোট খরচও কমবে। যদি ব্যাঙ্ক লোনের মেয়াদ বাড়ায়, তাহলে প্রতি মাসে স্বস্তি মিলবে ঠিকই, কিন্তু লম্বা সময়ে মোট সুদ কিছুটা বেশি দিতে হতে পারে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভালো করে ভেবে দেখবেন।