
বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত কর্মীদের অবসরের পর আর্থিক সুরক্ষা দেওয়ার জন্য রয়েছে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO)। নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেক কর্মীর বেসিক স্যালারি (Basic Salary) এবং মহার্ঘ ভাতার (DA) ১২ শতাংশ টাকা এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড (EPF) অ্যাকাউন্টে জমা হয়। সমপরিমাণ টাকা (১২ শতাংশ) আপনার কোম্পানিও জমা করে। তবে, কোম্পানির দেওয়া ১২ শতাংশের মধ্যে ৮.৩৩ শতাংশ টাকা যায় এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিমে (EPS) এবং বাকি ৩.৬৭ শতাংশ টাকা যায় EPF অ্যাকাউন্টে। এই EPS স্কিমটি ঠিক কী? অবসরের পর আপনি প্রতি মাসে কত টাকা পেনশন পাবেন? সেই হিসেব কীভাবে করা হয়? চলুন সহজ ভাষায় জেনে নেওয়া যাক।
EPS-এর অধীনে আপনি প্রতি মাসে কত টাকা পেনশন পাবেন, তা হিসেব করার জন্য সরকারের একটি নির্দিষ্ট ফর্মুলা রয়েছে:
মাসিক পেনশন = (পেনশনযোগ্য বেতন × চাকরির মোট সময়কাল) ÷ ৭০
এই ফর্মুলাটি বুঝতে হলে মূলত দুটি বিষয় জানতে হবে!
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, সরকার পেনশন হিসেব করার জন্য বেতনের সর্বোচ্চ সীমা প্রতি মাসে ১৫,০০০ টাকা নির্ধারণ করেছে (১ সেপ্টেম্বর, ২০১৪-এর পর থেকে)। অর্থাৎ, আপনার বেসিক স্যালারি ৩০,০০০ বা ৫০,০০০ টাকা হলেও, পেনশনের হিসেবটা কিন্তু ১৫,০০০ টাকার উপরেই করা হবে।
এটি হল আপনি একটি সংস্থায় মোট কত বছর কাজ করেছেন। পেনশন পাওয়ার জন্য কমপক্ষে ১০ বছর চাকরি করা বাধ্যতামূলক। যদি আপনি ২০ বছরের বেশি কাজ করে থাকেন, তাহলে বোনাস হিসেবে আপনার চাকরির মেয়াদের সঙ্গে অতিরিক্ত ২ বছর যোগ করা হয়।
ধরুন, একজন কর্মী ১৫,০০০ টাকা সর্বোচ্চ বেতনসীমায় ২৫ বছর চাকরি করেছেন।
ফর্মুলা অনুযায়ী, তাঁর মাসিক পেনশন হবে (১৫,০০০ × ২৫) ÷ ৭০ = ৫,৩৫৭ টাকা (প্রায়)।
বার্ষিক পেনশন হবে ৫,৩৫৭ × ১২ = ৬৪,২৮৪ টাকা।
অনেকেই মনে করেন যে তাঁরা হয়তো তাঁদের সম্পূর্ণ বেসিক স্যালারির উপর পেনশন পাবেন, কিন্তু ধারণাটি ঠিক নয়। যেহেতু বেতনের সর্বোচ্চ সীমা ১৫,০০০ টাকা বেঁধে দেওয়া আছে, তাই সাধারণ হিসেবে পেনশনের পরিমাণ সীমিতই থাকে।
সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী, যে সমস্ত কর্মীরা 'হায়ার পেনশন অপশন' বেছে নিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ১৫,০০০ টাকার সীমা প্রযোজ্য হবে না। তাঁদের আসল (সম্পূর্ণ) বেসিক স্যালারির ভিত্তিতে পেনশন হিসেব করা হবে। ফলে তাঁদের মাসিক পেনশনের পরিমাণ অনেকটাই বেশি হবে।
যোগ্যতা: মাসিক পেনশন পাওয়ার জন্য কর্মীর বয়স কমপক্ষে ৫৮ বছর হতে হবে এবং অন্তত ১০ বছর চাকরি করা বাধ্যতামূলক। যদি কেউ ৫০ থেকে ৫৮ বছরের মধ্যে পেনশন তুলতে চান, তাহলে পেনশনের পরিমাণ কিছুটা কমে যায়। অবসরের পর আর্থিক সুরক্ষার জন্য EPS পেনশন খুবই দরকারি। আপনার চাকরির মেয়াদ যত বেশি হবে, অবসরের পর মাসিক পেনশনের পরিমাণও তত বাড়বে।