
নভেম্বরের শুরু থেকেই রান্নার গ্যাসের গ্রাহকদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখতে হবে। বিশেষ করে এলপিজি (LPG) এবং পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস (PNG) ব্যবহারকারীদের গ্যাসের দাম, আধার যাচাইকরণ, সিলিন্ডার বুকিং ও ডেলিভারির নিয়ম সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা প্রয়োজন। তবে ১ নভেম্বর থেকেই সমস্ত নিয়মে নতুন করে বদল আসছে, এমনটা নয়। কিছু নিয়ম ইতিমধ্যেই চালু রয়েছে, অন্যদিকে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম মাসের শুরুতে পর্যালোচনা করা হতে পারে।
প্রতি মাসের শুরুতে তেল বিপণন সংস্থাগুলি সাধারণত ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম পর্যালোচনা করে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য এবং সরবরাহের পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে এই দাম বাড়তে বা কমতে পারে। ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের খরচেও এর প্রভাব পড়ে।
অন্যদিকে, গার্হস্থ্য এলপিজি সিলিন্ডারের দামও পর্যালোচনা করা হতে পারে। তবে বাড়িতে ব্যবহারের রান্নার গ্যাসের দাম প্রতি মাসেই পরিবর্তিত হয় না। নতুন দাম কার্যকর হবে কি না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট সংস্থার ঘোষণার দিকে নজর রাখতে হবে।
ভর্তুকিযুক্ত রান্নার গ্যাসের ক্ষেত্রে যোগ্য গ্রাহকদের জন্য আধারভিত্তিক বায়োমেট্রিক ই-কেওয়াইসি গুরুত্বপূর্ণ। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সংক্রান্ত নিয়ম ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকেই কার্যকর হয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যে যাচাইকরণ সম্পন্ন করেছেন, তাঁদের নতুন করে একই প্রক্রিয়া করার প্রয়োজন নেই।
ই-কেওয়াইসি করার জন্য গ্রাহকরা নিজেদের গ্যাস সংস্থার নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। ইন্ডেন গ্রাহকদের জন্য রয়েছে ‘IndianOil ONE’, ভারতগ্যাসের গ্রাহকদের জন্য ‘HelloBPCL’ এবং এইচপি গ্যাসের গ্রাহকদের জন্য ‘HP PAY’। প্রয়োজনে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের সঙ্গে যোগাযোগ করেও এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা যাবে। সিলিন্ডার ডেলিভারির সময় যাচাইকরণের সুযোগ রয়েছে কি না, তা স্থানীয় ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে জেনে নেওয়া যেতে পারে।
যাঁদের ই-কেওয়াইসি এখনও বাকি, তাঁরা ভর্তুকির যোগ্যতা এবং যাচাইকরণ সংক্রান্ত নিয়ম সম্পর্কে নিজেদের গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার কাছ থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।
এলপিজি সিলিন্ডার বুকিংয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধান মেনে চলা প্রয়োজন। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শহর ও গ্রাম—দুই ক্ষেত্রেই পরপর দু’টি বুকিংয়ের মধ্যে অন্তত ২৫ দিনের ব্যবধান রাখতে হয়। তাই নতুন সিলিন্ডার বুক করার আগে শেষ বুকিংয়ের তারিখ দেখে নেওয়া জরুরি।
এ ছাড়াও, সিলিন্ডার ডেলিভারির সময় রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে আসা ওটিপি (OTP) চাওয়া হতে পারে। সঠিক গ্রাহকের হাতে সিলিন্ডার পৌঁছেছে কি না, তা যাচাই করতেই এই ব্যবস্থা। ডেলিভারির সময় গ্রাহকদের মোবাইল ফোন কাছে রাখা উচিত এবং নির্ধারিত যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
সরকার পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস বা পিএনজি (PNG) পরিষেবার প্রসার ঘটানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তবে যেসব পরিবার নতুন পিএনজি সংযোগ নিচ্ছে, তাদের পুরনো এলপিজি সংযোগের বিষয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হতে পারে।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে সংশোধিত নিয়ম অনুসারে, পিএনজি সংযোগ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে গ্রাহকদের এলপিজি সংযোগ বাতিল করতে হবে। বিকল্প হিসেবে, পিএনজি পরিষেবা নেই এমন এলাকায় ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য ট্রান্সফার ভাউচার নেওয়ার ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এই নিয়মের প্রয়োগ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট গ্যাস সংস্থার কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া উচিত।
নভেম্বরের শুরুতে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম পর্যালোচনা করা হতে পারে। পাশাপাশি আধার ই-কেওয়াইসি, বুকিংয়ের ব্যবধান এবং ডেলিভারি যাচাইকরণের মতো নিয়মগুলি গ্রাহকদের মাথায় রাখা প্রয়োজন। তবে ১ নভেম্বর থেকেই গার্হস্থ্য গ্যাসের দাম বাড়বে বা সমস্ত নিয়মে নতুন পরিবর্তন আসবে, এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না।
তাই গ্যাসের নতুন দাম, ভর্তুকি এবং সংযোগ সংক্রান্ত কোনও পরিবর্তনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট তেল বিপণন সংস্থা বা সরকারি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি দেখে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।