Stock Market Secrets: শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে প্রতি মাসে ৩০,০০০ টাকা রোজগার করতে ঠিক কত টাকা বিনিয়োগ করতে হবে? মধ্যবিত্তদের জন্য সঠিক বিনিয়োগের উপায়, ঝুঁকি, ফিউচার অ্যান্ড অপশনস (F&O)-এর বিপদ এবং বিনিয়োগের জরুরি গাইডলাইন জেনে নিন।
মাসে ৩০ হাজার টাকা বাড়তি আয় হলে সংসারের খরচ, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা, হোম লোন বা ভবিষ্যতের সঞ্চয়ে দারুণ সুবিধা হয়। কিন্তু শেয়ার বাজার থেকে কি সত্যিই মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব? হ্যাঁ, সম্ভব। তবে এটাকে "সহজ এবং নিশ্চিত মাসিক আয়" ভাবলে বড় বিপদ হতে পারে।
27
বছরে ৩.৬০ লাখ টাকা আয় কি সম্ভব?
প্রথমে একটা হিসেব বুঝতে হবে। মাসে ৩০ হাজার টাকা মানে বছরে ৩.৬০ লাখ টাকা। আপনার বিনিয়োগ থেকে বছরে গড়ে ১২% রিটার্ন আসবে ধরলে, ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে বছরে ৩.৬০ লাখ টাকা পাওয়া যায়। অর্থাৎ, মাসে গড়ে ৩০,০০০ টাকা। কিন্তু এই আয় নিশ্চিত নয়। প্রতি বছর ১২% রিটার্ন আসবেই, এমন কোনও গ্যারান্টি নেই। একইভাবে, বছরে ১০% রিটার্ন ধরলে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। ৮% ধরলে লাগবে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা। এখান থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার যে, কম বিনিয়োগ করে মাসে ৩০ হাজার টাকা নিশ্চিত আয়ের বিজ্ঞাপন দেখলে সাবধান হওয়া উচিত।
37
৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে কী হবে?
শেয়ারে ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে মাসে ৩০ হাজার টাকা তুলতে চাইলে বছরে ৩.৬০ লাখ টাকা, অর্থাৎ ৭২% রিটার্ন দরকার। এটা অতিরিক্ত প্রত্যাশা। সেইজন্য বেশি ঝুঁকি নিয়ে ইন্ট্রাডে বা F&O-তে নামলে মধ্যবিত্ত বিনিয়োগকারীদের বিপদ বাড়তে পারে। সেবি (SEBI)-র একটি সমীক্ষা জানিয়েছে, ২০২১-২২ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ব্যক্তিগত ইক্যুইটি F&O ট্রেডারদের মধ্যে ৯৩% মানুষ লোকসান করেছেন। মোট লোকসানের পরিমাণ ১.৮ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
মধ্যবিত্তদের প্রথম লক্ষ্য চটজলদি মাসিক আয় তৈরি করা নয়। বরং বিনিয়োগেরমূলধন সুরক্ষিত রেখে দীর্ঘমেয়াদে তা বাড়ানো উচিত। প্রথমে তিন থেকে ছয় মাসের সংসারের খরচের জন্য এমার্জেন্সি ফান্ড আলাদা করে রাখুন। বেশি সুদের ঋণ থাকলে তা কমানো জরুরি। এরপর, মাসিক আয়ের যে অংশটা আপনি জমাতে পারবেন, সেটা নিয়মিত বিনিয়োগ করুন। সরাসরি শেয়ার বাছার অভিজ্ঞতা না থাকলে, ডাইভার্সিফায়েড মিউচুয়াল ফান্ড বা ইনডেক্স ফান্ড নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে পারেন। সেবি (SEBI)-র বিনিয়োগকারী শিক্ষা তথ্যও বলছে, ডাইভার্সিফিকেশনের মাধ্যমে কোনও একটি খারাপ বিনিয়োগের প্রভাব কমানো যায়।
ধরুন, আজ কারও কাছে ৩০ লাখ টাকা আছে। পুরো টাকাটা একটা শেয়ারে না ঢেলে বয়স, আয়, ঋণ, পারিবারিক দায়িত্ব এবং ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে অ্যাসেট অ্যালোকেশন করা জরুরি। শেয়ার বাজারে রাখা টাকা থেকে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা করে তুললে, বাজার পড়ার সময় মূলধন দ্রুত কমে যেতে পারে। তাই "বিনিয়োগ, বৃদ্ধি, তারপর পরিকল্পনা করে টাকা তোলা"—এই পদ্ধতি অনেকেই সহজে বুঝতে পারেন। তবে কোনও পদ্ধতিতেই শেয়ার বাজারে আয়ের গ্যারান্টি নেই। সেবি (SEBI) স্পষ্ট জানিয়েছে, মিউচুয়াল ফান্ডেও কোনও গ্যারান্টিড রিটার্ন থাকে না।
67
বিনিয়োগের ৫টি জরুরি নিয়ম
১. ধার করে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করবেন না।
২. একটা শেয়ারেই পুরো টাকা ঢালবেন না।
৩. "মাসে ৫%, ১০% নিশ্চিত আয়"—এমন প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করবেন না।
৪. F&O, ইন্ট্রাডে-কে সহজে মাসিক আয়ের রাস্তা ভাববেন না।
৫. বিনিয়োগের আগে আপনার লক্ষ্য, সময়সীমা এবং ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা হিসেব করুন।
সেবি (SEBI) পরামর্শ দেয়, বিনিয়োগের আগে লক্ষ্য ও ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা মাথায় রাখুন। বিনিয়োগের নথিপত্র মন দিয়ে পড়ুন। দরকার হলে সেবি-র রেজিস্টার্ড ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইজারের সাহায্য নিন।
77
নিয়মিত বিনিয়োগ আর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য জরুরি
মাসে ৩০ হাজার টাকা পাওয়ার জন্য "গোপন শেয়ার" বলে কিছু হয় না। আসল রহস্য হল, নিয়মিত বিনিয়োগ, দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য, ডাইভার্সিফিকেশন, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির বেশি আয়ের লোভে মূলধন বিপদে ফেলা উচিত নয়। প্রথমে আর্থিক নিরাপত্তা তৈরি করে তারপর শেয়ার বাজারে আসা দরকার। বাজার সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার জন্যই এই প্রতিবেদন। সঠিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিয়েই বিনিয়োগ করা উচিত। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলেন, শেয়ার বাজারে নিশ্চিত অতিরিক্ত আয়ের কোনও গ্যারান্টি নেই।
Disclaimer: এশিয়ানেট নিউজ বাংলা কখনও কোথাও বিনিয়োগের পরামর্শ দেয় না। বাজারে বিনিয়োগ একটি ঝুঁকিসাপেক্ষ বিষয়। তাই বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।
Business News in Bengali (ব্যবসার খবর): Get latest Business news highlights and live updates about stock market news & Updates, Personal finance tips, Indian economy & Budget News Updates at Asianet News Bangla.