
দেশের প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে (এইচইআই) একটি মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতা কেন্দ্র এবং পড়ুয়াদের অভিযোগ নথিভুক্ত করার জন্য একটি হেল্পলাইন চালু করতে হবে। এমনই নির্দেশ দিতে চলেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশের ভিত্তিতে, ইউজিসি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতার বিষয়ে একটি অভিন্ন নীতি প্রস্তুত করেছে। ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত জনসাধারণের কাছ থেকে মতামত চেয়েছে। খসড়া নীতি অনুসারে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতা কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে, যেখানে পড়ুয়ারা ব্যক্তিগত পরিসরে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে কাউন্সেলিং নিতে পারবে। প্রতিষ্ঠানগুলিকে কাউন্সেলিংয়ের জন্য প্রতি ৫০০ পড়ুয়ার জন্য একজন পরামর্শদাতা নিয়োগ করতে হবে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে মানসিক কষ্টের প্রাথমিক লক্ষণগুলি শনাক্ত করতে সহায়তা করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। প্রতি ১০০ শিক্ষার্থীর জন্য একজন সহপাঠীকে সহায়তাকারী হিসেবে নিয়োগ করতে হবে।
প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে একটি মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতা পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করতে হবে এবং এর সদস্যদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, ভারতে প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজনের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে এবং ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সের ৭.৩ শতাংশ যুবক গুরুতর মানসিক রোগে ভুগছেন। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ৭.৬ শতাংশ আত্মহত্যা শিক্ষার্থীদের দ্বারা সংঘটিত হয়।
যদিও ইজিসি-র এই উদ্যোগকে দেখনদারি বেশি, কম কার্যকর বলে অভিহিত করেছেন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক রাজীব কুমার। তিনি বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে ইউজিসি ও সরকারি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষাবিদরা বুঝতে পারবেন না। তিনি বলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হল পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল না করা। আত্মহত্যা প্রতিরোধের একমাত্র ভিত্তি হল প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ। এটি একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক বা কোর্স প্রশিক্ষক করতে পারেন।
গত ৬ বছরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এনসিআরবি-র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে দেশে শিক্ষার্থী আত্মহত্যার সংখ্যা ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক দশকে ছাত্রছাত্রীদের আত্মহত্যার সংখ্যা প্রায় ৬৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৩ সালে ৮,৪২৩ জন থেকে ২০২৩ সালে ১৩,৮৯২ জনে এই বৃদ্ধি গত দশকে মোট আত্মহত্যার সংখ্যার বৃদ্ধির চেয়েও বেশি। ২০১৩ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে মোট আত্মহত্যার সংখ্যায় ২৭% বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০১৩ সালে ১.৩৫ লক্ষ ছাত্রছাত্রী আত্মহত্যা করেছিল এবং ২০২৩ সালে ১.৭১ লক্ষ ছাত্রছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। ২০১৯ সালের ১.৩৯ লক্ষ আত্মহত্যার সংখ্যার তুলনায় ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ২৩% বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০২৩ সালে দেশে মোট আত্মহত্যার ঘটনার মধ্যে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার ছিল প্রায় ৮.১%। এক দশক আগে এই সংখ্যাটি ছিল ৬.২%। পেশা অনুযায়ী, ২০২৩ সালে মোট আত্মহত্যার ঘটনার মধ্যে দিনমজুরদের হার ছিল ২৭.৫%, গৃহিণীদের হার ছিল ১৪% এবং স্ব-কর্মসংস্থানকারীদের হার ছিল ১১.৮%।