
গত কয়েক মাস ধরেই অভিনেত্রী মধুমিতা সরকারের বিয়ে নিয়ে নেটপাড়ায় জল্পনার শেষ ছিল না। অবশেষে সমস্ত কৌতূহলের অবসান ঘটিয়ে পূর্ব নির্ধারিত দিনেই দীর্ঘদিনের বন্ধু ও জীবনসঙ্গী দেবমাল্য চক্রবর্তীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন তিনি। বসন্ত পঞ্চমীর পুণ্যলগ্নেই জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করলেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় ‘পাখি’।
লাল বেনারসিতে সাবেকি বাঙালি কনে বিয়ের মণ্ডপে মধুমিতাকে দেখা গেল একেবারে সাবেকি বাঙালি সাজে। পরনে টকটকে লাল বেনারসি, কপালে নিখুঁত চন্দনের কলকা, আর গলায় ও কানে ঝলমলে সোনার গয়না— সব মিলিয়ে অপূর্ব লাগছিল তাঁকে। অন্যদিকে ধুতি-পাঞ্জাবিতে বর বেশে দেবমাল্যকেও মানিয়েছিল দারুণ। বিয়েবাড়িতে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশ ছিল, তবে কনের বিশেষ অনুরোধ ছিল— দেবমাল্যের সঙ্গে মালাবদল না হওয়া পর্যন্ত যেন কোনও ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ না হয়।
ভক্তদের শুভেচ্ছায় ভাসলেন মধুমিতা সৌরভ চক্রবর্তীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দীর্ঘ সময় একা ছিলেন মধুমিতা। আবার নতুন করে সংসার শুরু করার সিদ্ধান্তে খুশির হাওয়া তাঁর অনুরাগীদের মধ্যেও। টলিপাড়ার সহকর্মী থেকে শুরু করে নেটিজেনরা সামাজিক মাধ্যমে শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়েছেন অভিনেত্রীকে। অনেকেই লিখেছেন, “নতুন ইনিংস খুব ভালো কাটুক।”
ঘনিষ্ঠদের উপস্থিতিতেই বিয়ে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন এবং টলিপাড়ার অল্প কয়েকজন বন্ধুর উপস্থিতিতেই সম্পন্ন হয়েছে এই বিয়ের অনুষ্ঠান। দেবমাল্যের সঙ্গে মধুমিতার সম্পর্ক যে বেশ গভীর, তা তাঁদের কাছের মহল আগে থেকেই জানতেন। সমস্ত নিয়ম মেনে অগ্নিসাক্ষী করে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমেই চারহাত এক করেন তাঁরা। এদিন পায়ে হেঁটেই মণ্ডপে পৌঁছান মধুমিতা। তাঁর দিক থেকে চোখ ফেরানো ছিল দায়! মালাবদল, সিঁদুরদান, সাতপাক— সাবেকি বাঙালি বিয়ের সব রীতিনীতি মেনেই সম্পন্ন হয় অনুষ্ঠান। ছোটবেলার বন্ধু ছিলেন মধুমিতা ও দেবমাল্য। মাঝখানে কয়েক বছর যোগাযোগ না থাকলেও আবার কাছাকাছি আসার পর আর দেরি করেননি দু’জনে। একসঙ্গে বাকি জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েই শুরু করলেন নতুন পথচলা।