দেবলীনা নন্দিকে নিয়ে শোরগোল সোশ্যাল মিডিয়া! মেয়েদের দাম্পত্য নিয়ে কী বললেন রূপাঞ্জনা, সুদীপ্তারা?

Published : Jan 07, 2026, 04:06 PM IST
deblina

সংক্ষিপ্ত

দেবলীনা নন্দিকে নিয়ে শোরগোল সোশ্যাল মিডিয়া! মেয়েদের দাম্পত্য নিয়ে কী বললেন রূপাঞ্জনা, সুদীপ্তারা?

গায়িকা দেবলীনা নন্দীর একটি লাইভ ভিডিয়ো ঘিরে সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। রবিবার রাতে সেই লাইভে তিনি জানান, শ্বশুরবাড়ির তরফে তাঁর উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল, যাতে তিনি নিজের মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত করেন। এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি নিয়ে নেটমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। দেবলিনার অভিজ্ঞতা বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয় বলেই মত বহু মানুষের। আজও অনেক নারী বিবাহের পর ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বিশেষত বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা রকম বিধিনিষেধের মুখে পড়েন। প্রযুক্তি ও চিন্তাভাবনার অগ্রগতি হলেও সমাজের একাংশে এই মানসিকতা এখনও বদলায়নি—এই বিতর্ক ফের সামনে এসেছে দেবলিনার ঘটনায়। 

তবে দর্শকের একাংশ মনে করছেন, পারিবারিক চাপে শুধু মেয়েরাই যে ক্ষতিগ্রস্ত হন, এমনটা নয়। অনেক ক্ষেত্রে পুরুষরাও একই ধরনের টানাপড়েনের মধ্যে পড়েন। কখনও স্ত্রীর পরিবারের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ থেকেও দাম্পত্য জীবনে অশান্তির সৃষ্টি হয় বলে তাঁদের দাবি। 

এই বিষয়ে অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র কড়া ভাষায় নিজের মত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “মহিলাদের উপর এই ধরনের মানসিক চাপ নতুন কিছু নয়। বহু বছর ধরেই সমাজে এটি চলে আসছে। সংসারে সমস্যা থাকতেই পারে, কিন্তু মেয়েদের কাছে বাপের বাড়ি মানেই আশ্রয় ও নিরাপত্তা। সেখানে যাতায়াত বা যোগাযোগে বাধা দেওয়া মানসিক ভাবে ক্ষতিকর।” 

অন্য দিকে অভিনেত্রী সঙ্ঘশ্রী সিংহ ও সুদীপা চট্টোপাধ্যায় বিষয়টিকে ভারসাম্য রেখে দেখতে চান। সঙ্ঘশ্রী বলেন, “দেবলীনাকে ব্যক্তিগত ভাবে চিনি না, তাই নির্দিষ্ট মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে এটা সত্য, যেমন অনেক মেয়েকে এই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়, তেমনই কিছু পুরুষও পারিবারিক চাপের শিকার হন। কারও ক্ষেত্রেই এটা কাম্য নয়।” 

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সুদীপা চট্টোপাধ্যায় জানান, শেষ বয়সে তাঁর মা তাঁর কাছেই থাকতেন। কারণ পরিবারের অন্য সদস্যরা কাজের সূত্রে বাইরে থাকতেন। এই সিদ্ধান্তে তাঁর স্বামী অগ্নিদেবের পূর্ণ সমর্থন ছিল। তিনি বলেন, “স্বামীর তরফ থেকেই প্রস্তাবটা এসেছিল। আমারও ইচ্ছে ছিল, কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা হচ্ছিল।” তবে বিষয়টিকে একপেশে ভাবে দেখার পক্ষপাতী নন সুদীপা। তাঁর মতে, “অনেক সময় মেয়েদের স্বাধীনতা খর্ব হয়—এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই। আবার এটাও ঠিক, কিছু ক্ষেত্রে মেয়ের বাড়ির হস্তক্ষেপ থেকেও সংসারে অশান্তি তৈরি হয়। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে দুই পক্ষকেই সংবেদনশীল হতে হবে।” সব মিলিয়ে দেবলীনা নন্দীর ঘটনার পর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, পারিবারিক সীমারেখা ও সম্পর্কের ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমাজমাধ্যমে বহু মানুষ নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছেন, যা এই বিতর্ককে আরও গভীর করে তুলছে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

তারকাদের সিমকার্ডের দাম জানেন? সাধারণ সিমের থেকে কতটা আলাদা কল্পনাও করতে পারবেন না
বড় পর্দায় ধামাকা, মুক্তি পেল 'ব্যাটল অফ গালওয়ান'-এর টিজার, দেখে নিন এক ঝলকে