
বিজয় দেবেরাকোন্ডা এখন চরম সমালোচনার মুখে। স্ত্রী রশ্মিকা মান্দানা-কে নিয়ে 'কফি উইথ করণ সিজন ৯'-এ এসেছিলেন তিনি। আর তারপর থেকেই নেটিজেনরা এই অভিনেতাকে তুলোধোনা করছেন। শোয়ে তাঁদের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা রীতিমতো ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, বিজয় নাকি রশ্মিকাকে 'অপমান' করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইউজাররা একটাই কথা বলছেন— 'শি ডিজার্ভস বেটার' (She Deserves Better)। শুধু বিজয় নন, রশ্মিকাকেও বিয়ের জন্য 'সাধাসাধি' করার কারণে ব্যাপক ট্রোল করা হচ্ছে। সদ্য বিবাহিত এই জুটি তাঁদের নতুন ছবি 'রণবালী'-র প্রচারে শোয়ে এসেছিলেন। সেখানেই তাঁদের বিয়ের আগের নানা ব্যক্তিগত কথা উঠে আসে। তাঁরা অনেক অজানা তথ্য শেয়ার করেন।
বিয়ের কথা প্রথম তুলেছিলেন রশ্মিকা মান্দানাই। তিনি বিজয়কে সোজাসুজি বলেছিলেন, “চলো বিয়ে করে নিই।” করণ জোহরকে রশ্মিকা জানান, তিনি এই বিষয়টা নিয়ে রীতিমতো নাছোড়বান্দা ছিলেন। তিনি বিজয়কে “একশো বার” — হয়তো “পুরো এক বছর ধরে” — বিয়ের জন্য সাধাসাধি করেছিলেন।
“ওকে, তুমি আমাকে একশো বার জিজ্ঞেস করেছ।” রশ্মিকার বারবার বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার জবাবে বিজয়ের এই তাচ্ছিল্যভরা উত্তর এবং তার পরের কথা, “আমি তো আর খারাপ মানুষ নই (I am not an a**hole)”, দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। করণ জোহর তখন বিজয়ের কাছে তাঁর দিকটা জানতে চান। নেটিজেনরা বিজয়ের এই কথা বলার ধরনকে একেবারেই ভালোভাবে নেননি। তাঁদের মতে, বিজয় রশ্মিকাকে ছোট করেছেন। তবে বিজয় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে জানান, তিনি রশ্মিকাকে অবজ্ঞা করতে চাননি। তাঁর কাছে বিয়েটা একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
বিজয় তাঁর দ্বিধার কারণও ব্যাখ্যা করেন। তিনি আসলে “সম্পর্কটা পরীক্ষা করে দেখতে চেয়েছিলেন।” এর মানে হলো, একসঙ্গে জীবনের ওঠা-পড়া এবং কেরিয়ারের চাপ সামলানো। তাঁর লক্ষ্য ছিল একটা দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করা। তিনি জানান, সম্পর্কটাকে জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ এবং খ্যাতির চাপ সহ্য করার মতো মজবুত হতে হতো। বিজয় এও স্বীকার করেন যে, আগে তিনি ভালোবাসায় বিশ্বাস করতেন না, যা তাঁর “অপরিণত” মানসিকতা ছিল। কিন্তু যখন তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি রশ্মিকার ওপর কতটা নির্ভরশীল এবং তাঁদের মধ্যে কতটা গভীর টান রয়েছে, তখন তাঁর চিন্তাভাবনা বদলে যায়।
বিজয়ের মন্তব্যের পর নেটিজেনরা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানান। পাশাপাশি, বিয়ের জন্য 'সাধাসাধি' করার অভিযোগে রশ্মিকাকেও তাঁরা একহাত নেন। দর্শকদের মতে, বিজয়ের কথা বলার ধরন এবং মন্তব্যগুলো রশ্মিকার প্রতি তাচ্ছিল্যপূর্ণ এবং অপমানজনক ছিল।
অনলাইনে “শি ডিজার্ভস বেটার” (She Deserves Better) কথাটা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে 'ম্যারেজ ইজ স্কেয়ারি' (Marriage Is Scary) ট্রেন্ডও জুড়ে যায়, যা বিজয়ের বিয়ে নিয়ে অনীহাকেই তুলে ধরে। সমালোচকরা রশ্মিকার কেরিয়ারের সাফল্যের কথাও মনে করিয়ে দেন। অনেকেই মনে করেন, বিজয়ের চেয়ে রশ্মিকা অনেক বেশি সফল। আর এই কারণেই বিজয়ের এমন অহংকারী আচরণ নিয়ে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একজন লেখেন, “উনি একপ্রকার রশ্মিকাকে অপমানই করছেন।” আরেকজন মন্তব্য করেন, “ভাই ক্যামেরার সামনে বসে বলছে যে ওর বউ ওকে ১০০ বারের বেশি সাধাসাধি করেছে, নিজের সঙ্গীকে এভাবে অপমান করাটা মোটেও ভালো দেখায় না।” কিছু ইউজার আবার তাঁদের অন্য এক সেলিব্রিটি জুটির সঙ্গে তুলনা করে “থার্ড কপি” বলেও কটাক্ষ করেছেন। সমালোচকদের মতে, পুরুষ সঙ্গীদের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এমন তাচ্ছিল্যভরে কথা বলার একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
Entertainment News ( বাংলা বিনোদনের খবর ): Read Entertainment News including movie reviews, Trailers, Celebrity gossips, TV shows and other Entertainment News in at Asianet News Bangla.