
চেক বাউন্স মামলায় বকেয়া টাকা জমা না দেওয়ায় আগেই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এরপর বুধবার শীর্ষ আদালতে সশরীরে হাজিরা দিলেন অভিনেতা রাজপাল যাদব। তিনি আদালতকে জানান, ২ কোটি টাকা তিনি মিটিয়ে দেবেন। এর প্রমাণ হিসেবে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকার একটি ডিমান্ড ড্রাফটও দেখান তিনি। বাকি ৮৫ লাখ টাকা মেটাবেন তাঁর সম্পত্তি কেনা এক ব্যক্তি, যিনি এদিন আদালতেও উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চ রাজপাল যাদবকে আগামী ১৩ অক্টোবরের মধ্যে অভিযোগকারীকে ২ কোটি টাকা মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, টাকা জমা দেওয়ার পরই দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে তাঁর আবেদন বিবেচনা করা হবে। এর আগে একটি বেসরকারি সংস্থার থেকে নেওয়া ঋণ মেটাতে ব্যর্থ হওয়ায় দিল্লি হাইকোর্ট তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল।
রাজপালের আইনজীবী আদালতকে জানান, টাকা জমা দেওয়ার জন্য তিনি কোর্টের রেজিস্ট্রিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে আরটিজিএস (RTGS) নেওয়া হয় না। তাই তিনি ১ কোটি ১৫ লাখ টাকার ডিমান্ড ড্রাফট নিয়ে এসেছেন। বাকি ৮৫ লাখ টাকার বিষয়ে আইনজীবী জানান, রাজপালের সম্পত্তি যিনি কিনছেন তিনি আদালতে আছেন এবং তিনিই ওই টাকা মিটিয়ে দেবেন। এদিকে সংবাদসংস্থা এএনআই-কে রাজপাল যাদব বলেন, “সিনেমার জন্য কেউ লোন নেয় না। বাড়ি বা জমি কেনার জন্য লোন নেওয়া হয়। এটা একটা প্যাকেজ ডিল বা বিনিয়োগ বলতে পারেন। রাজপাল যাদব নিজেই এখন একশোটা সিনেমায় কাজ করছে, তাহলে একটা সিনেমা বানানোর জন্য সে কেন লোন নেবে? আমার দেশ, সুপ্রিম কোর্ট এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি আমার পূর্ণ সম্মান রয়েছে। যে রায়ই আসুক না কেন, তা মাথা পেতে নেব।”
আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, অভিযোগকারী যাতে তাঁর টাকা ফেরত পান, শুধুমাত্র সেই কারণেই সময়সীমা বাড়ানো হচ্ছে। রাজপালের আচরণ নিয়ে তাঁকে সতর্ক করে বেঞ্চ বলে, "আইনকে এভাবে ব্যবহার করা উচিত নয়।" বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী প্রশ্ন তোলেন, রাজপাল কি আদৌ জেল খেটেছেন? তিনি ইঙ্গিত দেন যে, আদালত চাইলে তাঁর সাজার মেয়াদ বাড়াতে পারে। আদালত জানায়, টাকা জমা দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো অভিযোগকারীর পাওনা নিশ্চিত করা এবং রাজপালের আচরণে আদালত একেবারেই সন্তুষ্ট নয়।
২০১০ সালে 'আতা পাতা লাপাতা' ছবির জন্য মেসার্স মুরলি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন রাজপাল যাদব। এরপর ১ কোটি ৫ লাখ টাকার সাতটি চেক বাউন্স হয়। সেখান থেকেই এই চেক বাউন্স মামলার সূত্রপাত। বছরের পর বছর ধরে সুদ ও অন্যান্য চার্জ মিলিয়ে বকেয়া টাকার পরিমাণ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।
নির্দেশ দেওয়ার পর রাজপালের সঙ্গে কিছুটা হালকা মেজাজেই কথা বলে বেঞ্চ। 'আতা পাতা লাপাতা' ছবির জন্য তাঁর কতটা ক্ষতি হয়েছে, সেকথা জানান অভিনেতা। তিনি বলেন, ওই ছবির জন্য প্রায় ২০০-২৫০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে এবং প্রযোজকরাও চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তখন ছবির নামের সূত্র ধরেই প্রধান বিচারপতি রসিকতা করে বলেন, "আপনার সিনেমার মতোই আপনার টাকাও আতা পাতা লাপাতা, গায়েব।"
আদালত যখন তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চায়, তখন বেঞ্চকে অভিবাদন জানিয়ে রাজপাল বলেন, "প্রণাম করি।" জেলে কাটানো সময় সহ নিজের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন তিনি। তখন প্রধান বিচারপতি তাঁকে ভালো সিনেমা বানানোর এবং মানুষকে বিনোদন দেওয়ার পরামর্শ দেন। মজার ছলে তিনি এও বলেন যে, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরাও খুব ভালো অভিনেতা, চাইলে তাঁদেরও সিনেমায় নেওয়া যেতে পারে।
রাজপাল আদালতকে আরও জানান, ছবির এত ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও ৫ কোটি টাকার দায়ের জন্য তাঁকে হেনস্থা করা হচ্ছে। এর আগে ২ কোটি টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ অমান্য করায় গত ৫ অক্টোবর রাজপালের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয়েছিল আদালত। গত ১৫ সেপ্টেম্বর তাঁকে টাকা জমা দেওয়ার এবং টাকা মেটানোর একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা জমা দেওয়ার জন্য শেষবারের মতো দু'সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছিল। (এএনআই)
Entertainment News ( বাংলা বিনোদনের খবর ): Read Entertainment News including movie reviews, Trailers, Celebrity gossips, TV shows and other Entertainment News in at Asianet News Bangla.