ভারতীয় গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান কিনা এক পাকিস্তানি, ৫ বছর ধরে কেউ লক্ষ্যই করল না

Published : Jan 01, 2021, 07:38 PM IST
ভারতীয় গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান কিনা এক পাকিস্তানি, ৫ বছর ধরে কেউ লক্ষ্যই করল না

সংক্ষিপ্ত

পাকিস্তানের করাচিতে তার বাড়ি তিন দশক আগে ভারতে এসে আর ফেরেননি জোগার করেছেন আধার কার্ড ভোটার কার্ড তারপর একেবারে গ্রামের প্রধান হয়ে বসেছিলেন  

তিনি পাকিস্তানের নাগরিক। ভারতে এসেছিলেন প্রায় তিন দশক আগে। আর দেশে ফেরেননি। তারপর ভারতের একটি গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য, এমনকী সম্প্রতি সেই গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধানও হয়ে বসেন। কিন্তু, ২০২০-র শেষে এসে তাঁর সুসময় ফুরোলো। পাক পরিচয় সামনে আসতেই তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তরপ্রদেশের ইটা জেলায়।

জানা গিয়েছে ওই পাকিস্তানী নাগরিকের নাম বানো বেগম। বয়স ৬৫ বছর। পাকিস্তানের করাচিতে তাঁর বাড়ি। ৩৫ বছর আগে এই পাক মহিলা, এক আত্মীয়ের বিয়ে উপলক্ষ্যে ইটা-র গুয়াদাউ গ্রামে এসেছিলেন। তারপর আর ফিরে যাননি। দীর্ঘমেয়াদি ভিসা নিয়ে ভারতেই থেকে গিয়েছেন। আখতার আলি নামে স্থানীয় এক বাসিন্দার সঙ্গে তাঁর বিয়েও হয়েছে। এরমধ্যে একাধিকবার তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। ভারতীয় নাগরিকত্ব তাঁর পাওয়া হয়নি। কিন্তু, আধার কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড এবং আরও বেশ কয়েকটি সরকারি সুযোগ সুবিধা পাওয়ার নথি আদায় করগে নেন বানো।

আদতে করাচির বাসিন্দা বানো বেগম

এরপর, ২০১৫ সালে তিনি গুয়াদাউ গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। পাকিস্তানের নাদরিক হয়েও গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য হয়ে যান তিনি। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে গুয়াদাউ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শাহনাজ বেগম-এর মৃত্যু হয়। তারপর বানো বেগম-কে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান মনোনীত করে গ্রাম কমিটি। সেই থেকে আদতে করাচির বাসিন্দা বানো, গুয়াদাউ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে বাধ সাধলেন কৈদান খান নামে গ্রামের এক বাসিন্দা। তিনিই ডিসেম্বর মাসে প্রশাসনের কাছে বানো পাক নাগরিক বলে অভিযোগ দায়ের করেন।

যার ফলে বানো বেদগম পঞ্চায়েত প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন। তবে পদত্যাগ করেও ছাড় পাননি তিনি। বিষয়টি পৌঁছেছে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্তরে। ম্যাজিস্ট্রেট এই ঘটনার বিষয়ে এফআইআর দায়ের করা এবং তদন্তের আদেশ দিয়েছেন। প্রতারণামূলক উপায়ে বানো বেগম আধার কার্ড, ভোটার আইডি এবং অন্যান্য নথি পেয়েছেন বলে দাবি প্রশাসনে। কীভাবে এই প্রতারণা করা হয়েছে, কারা কারা জড়িত ছিল, সেই সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

PREV
click me!

Recommended Stories

UP Agriculture: ৯ বছরে বদলে গেছে উত্তরপ্রদেশের কৃষি! ৮৬ লক্ষ কৃষকের ঋণ মকুব, উৎপাদনেও রেকর্ড
PM Narendra Modi: ৮,৯৩১ দিন! সরকারের প্রধান হিসেবে ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন প্রধানমন্ত্রী মোদীর