
8th Pay Commission: অষ্টম বেতন কমিশন মহারাষ্ট্রের মুম্বাইতে তাদের বৈঠকের সময়সূচি ঘোষণা করেছে; সেখানে তারা ২০২৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবে। বেতন কমিশন এর আগেই বেঙ্গালুরুতে বৈঠকের সময়সূচি ঘোষণা করেছিল, যেখানে ৭ ও ৮ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা হবে।
চণ্ডীগড়, চেন্নাই, পুদুচেরি এবং জয়পুরে তাদের সেপ্টেম্বরের আলোচনার পর্ব ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এই সব আলোচনায় কর্মচারী সংগঠনগুলো বেতন এবং 'ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর'-এর বিষয়গুলো জোরালোভাবে উত্থাপন করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন (basic salary) সংশোধনের ক্ষেত্রে এই দুটি বিষয়ই হবে প্রধান উপাদান।
সপ্তম বেতন কমিশনের সময় ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের অর্থ ছিল যে, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের অধীনে থাকা একজন কর্মচারীর মূল বেতনকে ২.৫৭ দিয়ে গুণ করে নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছিল। যদিও তাদের মূল বেতন ২.৫৭ গুণ বেড়েছিল, কিন্তু মোট বেতন (gross salary) বেড়েছিল মাত্র ১৪.২৮ শতাংশ।
মূল বেতন এবং মোট বেতনের মধ্যে কেন এত বড় পার্থক্য ছিল? অষ্টম বেতন কমিশনের ক্ষেত্রেও কি এমনটা ঘটতে পারে? অষ্টম বেতন কমিশনে একজন 'লেভেল ৮'-এর কর্মচারী কি মোট বেতনে ৫৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারেন, যার ফলে তাদের মাসিক মোট বেতন ১.৫১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে?
বিভিন্ন বেতন কমিশনের অধীনে মোট বেতন বৃদ্ধির গড় হার—একটি বেতন কমিশনের আওতায় মূল বেতন বৃদ্ধি এবং মোট বেতন বৃদ্ধি কেন সমান হয় না? বেতন কমিশনের অধীনে সংশোধিত মূল বেতন এবং মোট বেতনের মধ্যে পার্থক্য মূলত প্রচলিত মহার্ঘ ভাতার (DA) হারের কারণে হতে পারে। বেতন সংশোধনের সময় যদি ডিএ (DA)-র হার বেশি থাকে, তবে মোট বেতন বৃদ্ধির হার কম হতে পারে।
আসুন গত দুটি বেতন কমিশনের উদাহরণ দেখা যাক। যখন ষষ্ঠ বেতন কমিশনের প্রতিবেদন কার্যকর করা হয়েছিল, তখন পঞ্চম বেতন কমিশনের ডিএ (DA)-র হার ছিল ৪৭ শতাংশ। এর অর্থ হলো, পঞ্চম বেতন কমিশনের (CPC) অধীনে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা ইতিমধ্যেই ১.৪৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর সুবিধা পাচ্ছিলেন।
সরকার যখন ষষ্ঠ বেতন কমিশনের জন্য ১.৮৬ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণ করল, তখন মোট বেতন বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ৫৪ শতাংশ। তবে, 'ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর' (fitment factor) নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার কেবল মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA)-কেই বিবেচনায় নেয় না; এর পাশাপাশি প্রচলিত বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA) এবং পরিবহন ভাতার (TPTA) বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়।
এর বিপরীতে, সপ্তম বেতন কমিশন তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি—অর্থাৎ ২.৫৭—ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর সুপারিশ করেছিল। কিন্তু ২০১৬ সালের জুন মাসে যখন সেই প্রতিবেদনটি কার্যকর বা বিজ্ঞাপিত হয়, তখন ডিএ-র হার ছিল ১২৫%। ১২৫% ডিএ-র অর্থ হলো, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের (6th CPC) আওতায় কর্মীরা আগেই ২.২৫ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের সমতুল্য সুবিধা পাচ্ছিলেন।
এর ফলে, ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর থাকা সত্ত্বেও গড় মোট বেতন বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ১৪.২৯%। অষ্টম বেতন কমিশনের ক্ষেত্রেও কি একই ঘটনা ঘটতে পারে? এটি নির্ভর করবে অষ্টম বেতন কমিশনের প্রতিবেদন অনুমোদনের সময় ডিএ-র হার কত তার ওপর। বর্তমানে ডিএ-র হার ৬০%; যদি ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিবেদনটি অনুমোদিত হয়, তবে এই হার বেড়ে প্রায় ৬৬%-এ পৌঁছাতে পারে।
মোট বেতন বৃদ্ধির হার সম্ভবত সেই হারের ওপরই নির্ভর করবে। তবে কেন্দ্রীয় সরকার বেতন কমিশনের প্রতিবেদন অনুমোদন করলেই প্রকৃত বৃদ্ধির হার জানা যাবে। অষ্টম বেতন কমিশনের আওতায় লেভেল ৮-এর একজন কর্মী কি মাসে ১.৫১ লক্ষ টাকা মোট বেতন পেতে পারেন?
যেহেতু কর্মীদের মোট বেতন সরকারের নির্ধারিত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভর করবে, তাই একটি উদাহরণমূলক হিসাবের মাধ্যমে ২.০, ২.৩৮ এবং ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের ক্ষেত্রে মোট বেতন বৃদ্ধির হার কত হতে পারে, তা দেখানো হয়েছে।
অনুমান: বর্তমান মূল বেতন (Basic) ₹ ৪৭,৬০০; বর্তমান মোট বেতন (Gross Salary) ₹ ৯০,৪৪০; ১ জানুয়ারি ২০২৬-এ বর্তমান ডিএ (DA) হার ৬০.০%; 'X' শ্রেণির শহরের জন্য বর্তমান এইচআরএ (HRA) হার (ডিএ ৫০%-এর বেশি হলে) ৩০.০%; অষ্টম সিপিসি (CPC)-তে নতুন ডিএ হার (০%-এ পুনঃনির্ধারিত) ০.০%; 'X' শ্রেণির শহরের জন্য নতুন এইচআরএ ভিত্তি হার ২৪.০%। ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, সংশোধিত মূল বেতন, নতুন মোট বেতন, মূল বেতন বৃদ্ধির হার, মোট বেতন বৃদ্ধির অনুপাত — এই বিষয়গুলো হলো: ২-এর ক্ষেত্রে ₹ ৯৫,২০০ ও ₹ ১,১৮,০৪৮ (১০০% ও ৩১%); ২.৩৮-এর ক্ষেত্রে ₹ ১,১৩,২৮৮ ও ₹ ১,৪০,৪৭৭ (১৩৮% ও ৫৫%); ২.৫৭-এর ক্ষেত্রে ₹ ১,২২,৩৩২ ও ₹ ১,৫১,৬৯২ (১৫৭% ও ৬৮%)।
দাবিত্যাগ: এই হিসাবগুলো সম্ভাব্য ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে; চূড়ান্ত বেতন ও ভাতা ভিন্ন হতে পারে। উৎস: BankBazaar.com।
হিসাব অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে যে, ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের ক্ষেত্রে লেভেল ৮-এর একজন কর্মীর আনুমানিক মোট বেতন প্রায় ১.৫২ লক্ষ টাকা হতে পারে, যার অর্থ মোট বেতনে ৬৮% বৃদ্ধি। তবে, অষ্টম বেতন কমিশনের প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হলেই মোট বেতনের প্রকৃত বৃদ্ধির বিষয়টি জানা যাবে।