
8th Pay Commission: বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত অষ্টম বেতন কমিশনের নির্ধারিত সময়সীমার অর্ধেকেরও বেশি সময় ইতিমধ্যে অতিবাহিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বেতন, পেনশন, ভাতা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন তৈরির লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে এই কমিশন গঠন করেছিল এবং এর জন্য ১৮ মাস সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিল।
গঠিত হওয়ার পর থেকে অষ্টম বেতন কমিশন দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল—যার মধ্যে দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশাও অন্তর্ভুক্ত—সেখানকার বিভিন্ন ইউনিয়ন, সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও আলোচনা করেছে।
অষ্টম বেতন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুযায়ী, আগামী মাসগুলোতে চেন্নাই, পুদুচেরি, চণ্ডীগড় এবং রাজস্থানেও অনুরূপ বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। এই বৈঠকগুলো সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের অষ্টম বেতন কমিশনের প্যানেলের সামনে তাদের মতামত, অভিযোগ ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার সুযোগ করে দেবে।
এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে বিভিন্ন বিশিষ্ট ইউনিয়ন যেসব মূল বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে, তার মধ্যে রয়েছে—মূল বেতন (বেসিক পে), ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, কর্মীদের মনোবল, পেনশন সংস্কার এবং অন্যান্য নানাবিধ জরুরি বিষয়।
এই প্রেক্ষাপটে, গত সাত দশকে সরকারি বেতন কাঠামোর বিবর্তন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি; যা ভবিষ্যতে সরকার কীভাবে বেতন নির্ধারণ ও বেতন সংশোধন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সে বিষয়ে অর্থবহ ধারণা দিতে সক্ষম। কেন্দ্রীয় সরকারের বেতন কাঠামোয় কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে এবং পরবর্তী সংশোধনের ক্ষেত্রে কর্মীরা কী আশা করতে পারেন—তা বোঝার জন্য এই মাপকাঠিটি একটি কার্যকর দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।
তাছাড়া, প্রথম বেতন কমিশনের সময় থেকে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের ন্যূনতম মূল বেতন মাসে মাত্র ৫৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৮,০০০ টাকায় উন্নীত হয়েছে। নামমাত্র মূল্যের (নমিনাল টার্মস) হিসেবে এটি ৩২৫ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি।
এই যাত্রার সূচনা হয়েছিল ১৯৪৬-৪৭ সালে প্রথম বেতন কমিশনের মাধ্যমে, যা ন্যূনতম বেতন ৫৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল। দ্বিতীয় বেতন কমিশন তা বাড়িয়ে ৮০ টাকা করেছিল এবং তৃতীয় বেতন কমিশন তা ১৯৬ টাকায় উন্নীত করেছিল। চতুর্থ বেতন কমিশনের অধীনে ন্যূনতম মূল বেতন বেড়ে ৭৫০ টাকা, পঞ্চম কমিশনের অধীনে ২,৫৫০ টাকা, ষষ্ঠ কমিশনের অধীনে ৭,০০০ টাকা এবং সবশেষে সপ্তম বেতন কমিশনের অধীনে ১৮,০০০ টাকা (যা ২০১৬ সালে কার্যকর হয়) হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যাপক পরিবর্তনটি আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য আসুন ন্যূনতম মূল বেতনের বিবর্তনের দিকে নজর দিই।
ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি পুরো বিষয়টির একটি অংশ মাত্র। ধারাবাহিক বেতন কমিশনগুলো বেতন কাঠামোকে আরও সহজ, প্রয়োগযোগ্য এবং স্বচ্ছ করারও চেষ্টা করেছে। আগের পদ্ধতিগুলো মূলত ব্যক্তিগত বেতন স্কেলের ওপর বেশি নির্ভরশীল ছিল। ষষ্ঠ বেতন কমিশন 'পে ব্যান্ড' (pay bands) এবং 'গ্রেড পে'-র (grade pay) প্রবর্তন করেছিল; অন্যদিকে সপ্তম বেতন কমিশন সেগুলোর পরিবর্তে 'পে ম্যাট্রিক্স' (pay matrix) ও বিভিন্ন 'পে লেভেল' (pay levels) চালু করে। এর ফলে সরকারি বেতন কাঠামোর মধ্যে একজন কর্মীর পদমর্যাদা, পারিশ্রমিক, পদোন্নতি এবং সামগ্রিক কর্মজীবনের অগ্রগতির উপস্থাপনা বা বিন্যাসে পরিবর্তন আসে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল ষষ্ঠ বেতন কমিশন, যা প্রকৃত বেতন বা 'রিয়েল পে'-তে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটিয়েছিল এবং কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন-কাঠামো সংশোধনের ইতিহাসে এটিকে অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে, আসুন অষ্টম বেতন কমিশন প্যানেলের কাছে বিভিন্ন প্রধান ইউনিয়নগুলোর দাবি এবং সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের ভবিষ্যৎ পারিশ্রমিকের ওপর সেই দাবিগুলোর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে জেনে নিই।
আশা করা হচ্ছে, অষ্টম বেতন কমিশন প্যানেল ২০২৭ সালের মে-জুন মাসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার কাছে তাদের সুপারিশগুলো পেশ করবে। এছাড়া, আগের তিনটি কমিশনের ক্ষেত্রে 'ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর'-এরও (fitment factor) বিবর্তন ঘটেছে; ষষ্ঠ ও সপ্তম বেতন কমিশনে এই মান যথাক্রমে ১.৮৬ এবং ২.৫৭ ছিল। এখন দেখার বিষয় হলো, অষ্টম বেতন কমিশন কোন ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরটি নির্ধারণ করে এবং আগামী দশকে কর্মরত কর্মী ও পেনশনভোগীদের মূল বেতনের ওপর তার কী প্রভাব পড়ে।
পরিশেষে, পূর্ববর্তী সাতটি কমিশনের ইতিহাস এবং সেগুলোর অধীনে মূল বেতনের বিবর্তন থেকে দেখা যায় যে, প্রতিটি সংশোধনের মাধ্যমেই বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বেতন গণনার কাঠামোতেও পরিবর্তন এসেছে। অষ্টম বেতন কমিশন সেই বিবর্তন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে বলেই আশা করা হচ্ছে।